মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

‘নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি’

নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। 

তিনি বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব ও সমাজে পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু কমিটি বা নীতিমালা নয়, সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি ও ইউএন উইমেন আয়োজিত ‘হোল অব স্কুল অ্যাপ্রোচ’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক মামুন বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসঙ্গে অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায়ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের নারীপ্রধানদের সামাজিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

এ সময় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইউজিসি সদস্য বলেন, ‘অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নিরাপদ, গোপনীয় ও কার্যকর হতে হবে। অভিযোগের পর ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি জবাবদিহি ও তদারকির ব্যবস্থাও থাকতে হবে।’

দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের ফলে নারীদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর ও গোপনীয় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।’

নারীর নেতৃত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারীর অংশগ্রহণকে শুধু কোটা বা প্রতিনিধিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। তাদের নেতৃত্বের পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগও তৈরি করতে হবে।

নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নসংক্রান্ত উদ্যোগের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রমের সমন্বয়ের আহ্বান জানান ইউজিসির এই সদস্য। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে শুধু ইউজিসি বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাও কাজে লাগাতে হবে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মামুন বলেন, ‘নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করাও একাডেমিক উৎকর্ষের অংশ।’

কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। এর আওতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘হোল অব স্কুল অ্যাপ্রোচ’-এর আওতায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ২৮ জন ‘ট্রেইনার অব ট্রেইনার্স’-এর মধ্যে সনদ বিতরণ করেন অধ্যাপক মামুন। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেলের সদস্য এবং ইউজিসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর