শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ, শিক্ষা, পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগকে দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শিশুদের জন্য যথাযথ ও সময়োপযোগী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে, যা অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক গতিশীলতা এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোববার (১৭ মে) ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং অক্সফোর্ড পলিসি ম্যানেজমেন্টের যৌথ উদ্যোগে ‘শিশু বিকাশ থেকে মানবসম্পদ: সামাজিক গতিশীলতার জন্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যবহার’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব মতামত উঠে আসে। কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, পর্যাপ্ত পুষ্টি, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারের আয় বৃদ্ধির সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিশুরা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবে।
তারা আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে কেবল সহায়তা হিসেবে না দেখে মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
কর্মশালায় গবেষকরা গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সামাজিক গতিশীলতা নিয়ে তাদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে। অন্যদিকে অক্সফোর্ড পলিসি ম্যানেজমেন্ট তাদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, যেখানে শিশু বিকাশ এবং দারিদ্র্য নিরসনকে একসঙ্গে যুক্ত করে কাজ করা হচ্ছে।
আইসিডিডিআরবি’র ইমেরিটাস বিজ্ঞানী ড. জেনা হামাদানি বলেন, শিশুর জীবনের প্রথম দিকেই সঠিক বিনিয়োগ করা হলে ভবিষ্যতে শক্তিশালী মানবসম্পদ তৈরি হয়, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে টেকসই করে। এই বিনিয়োগ দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে সহায়তা করে এবং সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি শক্ত করে।
বিজ্ঞাপন
সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্ডি ম্যাকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সামাজিক গতিশীলতা ও মানবসম্পদ গঠনের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আন্তঃপ্রজন্মীয় ও অন্তঃপ্রজন্মীয় গতিশীলতা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, দারিদ্র্য কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে পরিবার ও সমাজে প্রভাব ফেলে এবং কীভাবে তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, একসময় শিক্ষা সামাজিক সমতার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল, কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে এটি বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. দিপঙ্কর রায় গবেষণা ও তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও উন্মুক্ততা ও সহজলভ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য অপরিহার্য।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, শিশুদের ওপর বিনিয়োগ করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— ড. আবদুর রাজ্জাক, ড. কাজী ইকবাল, অধ্যাপক এনামুল হক, ড. সেলিম রায়হান, ড. ফাহমিদা খাতুন, ড. মনজুর আহমেদসহ বিভিন্ন গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা।
এএইচ/এএস




