সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রত্যক্ষ ভোটের সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রত্যক্ষ ভোটের সুপারিশ

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে টেকসই ও অগ্রগামী করতে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে ভোট চালুসহ বিভিন্ন সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বর্তমান পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলা হয়।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি। তিনি বলেন,  বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থান সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে জটিল ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যা পূর্ববর্তী সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে উন্মোচন করছে। এই পরিস্থিতিতে  গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে একটি  অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পদ্ধতির পক্ষে থাকার আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে টেকসই ও অগ্রগামী করতে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংগঠনের সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়, নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। মোট আসন সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ বাড়াতে হবে এবং এই ব্যবস্থা আগামী দুই বা তিন টার্ম বলবৎ রাখাতে হবে। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অধিকহারে নারীদের মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে অর্থ যাতে মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এছাড়াও মহিলা পরিষদ সব রাজনৈতিক দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি মনিটরিং করাসহ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন; নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন; নারী নির্যাতন প্রতিরোধ; সাম্প্রদায়িকতা ও নারী বিদ্বেষী মনোভাব প্রতিরোধ; আদিবাসী, প্রতিবন্ধী, দলিতসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার সংরক্ষণ; নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া অধিকার এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিতে সংগঠনের পক্ষে সুপারিশ করে।

Women2


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন,  আজকের সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে নারীকে অবমাননা করার দিকটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের নারী-পুরুষের সমতা ও ন্যায্যতার কথা বলা হলেও রাজনৈতিক ইশতেহারে নারী ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পায় না। এতে নারী সমাজের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি হচ্ছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সংরক্ষিত আসনে সংখ্যা বৃদ্ধি, সরাসরি নির্বাচন এবং নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নারী নীতিতে তেমন গুরুত্ব পায়নি।

ফাওজিয়া বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নারীর জন্য সরাসরি আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সহজ নয়। কারণ সমাজের মধ্যে নারীর প্রতি অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্পদ-সম্পত্তিতে নারীর অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় শক্তি ও সম্পদের লড়াইয়ে পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে নারীরা পিছিয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ব্যবস্থা দুই বা তিন টার্ম বলবৎ রাখা আবশ্যক। নির্বাচনে নারী সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এসময় তিনি সুশাসন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়  জনগণকে সাথে নিয়ে জনবান্ধব নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য এবং নির্বাচনের পূর্বে, নির্বাচনকালে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জোর দাবি জানান।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি একক মন্ত্রণালয় হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ও নারীর অধিকার সুরক্ষায় এই মন্ত্রণালয়ের জোরালো ভূমিকা পালন করবে- এটি মহিলা পরিষদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও দাবি।

এমএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর