শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, তৈরি হচ্ছে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, তৈরি হচ্ছে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’
বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছবি- সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হবে ‘মুরাসু’।

ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি) শনিবার (৩১ অক্টোবর) জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ ঢোল। এই নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠতে পারে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি আগামী মঙ্গলবার সকালে অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তুলনায় এটি অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী হতে পারে।

Cyclone_Murasuএর আগে, গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। সে সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার।

ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আইএমডি জানিয়েছে, ২ নভেম্বর অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরদিন ৩ নভেম্বর এসব এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া অন্ধ্র প্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে ২ ও ৩ নভেম্বর অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে অন্ধ্র প্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

Cyclone_Murasu_1২ নভেম্বর বিকেল নাগাদ অন্ধ্র উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠতে পারে ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।

২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে। এ সময় দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। ৩ নভেম্বর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

৪ নভেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। সেদিন সকালে বাতাসের গতিবেগ কমে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারে নেমে আসতে পারে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর