হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ধসের ক্ষত কাটতে না কাটতেই নেপালে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তে ভূমিধসে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ায় শুক্রবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় উদ্ধার অভিযান। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় আবারো উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। তবে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে নদী-উপত্যকায় বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসে। এর ফলে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দেয়। চীনের তিব্বত অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নেপালি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার। চীনের তিব্বতেও কয়েকজনের মৃত্যু এবং শত শত মানুষের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশ ভারতের তীর্থযাত্রী ও পর্যটক।
এদিকে নিখোঁজদের উদ্ধারে চলছে ব্যাপক অভিযান। নেপালে প্রায় ১৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার ও অনুসন্ধানে নিয়োজিত রয়েছেন। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ পৌঁছানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে শুক্রবার নতুন করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সীমান্ত এলাকায় ভূমিধসের কারণে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে হ্রদটি উপচে পড়ার খবর পাওয়া যায়। এতে ওই এলাকার নদীর পানিও বাড়তে শুরু করে। সম্ভাব্য নতুন বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় নেপালের রাশুয়া জেলায় প্রায় ৯০ মিনিটের জন্য উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয় লোকজনকেও নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যেতে দেখা যায়।
চীনা কর্তৃপক্ষও সীমান্তের কাছে তৈরি হওয়া হ্রদটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। হ্রদের পানি আরও বাড়লে বা প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে নিচের দিকে ফের আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঝুঁকি কিছুটা কমে আসায় পরে নেপাল ও চীন আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
বিপর্যয়ের ব্যাপকতায় নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বন্যার স্রোতে সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে গেছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের হিসাবে, এই বন্যা ও ধসে নেপালে ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সংস্থাটি জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য তহবিলও চেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ এবং হিমবাহ ও উচ্চভূমির ঢালের অস্থিতিশীলতা এ ধরনের আকস্মিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে বর্তমান বিপর্যয়ের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
এমআর




