আগামী সাত দিন (১৯-২৬ এপ্রিল) সামগ্রিকভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত সংঘটিত হতে পারে। এই সময়ে স্থানভেদে সর্বোচ্চ সর্বমোট ১০০-১৭৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরফলে ওই অঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীসমূহ (সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস) এবং অন্যান্য উপ-নদীসমূহের পানি সমতল সপ্তাহের প্রথম ভাগে বৃদ্ধি পেলেও সপ্তাহের শেষ ভাগে স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে ‘উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকস্মিক বন্যা সম্পর্কিত ৭ দিনের ধারণাগত পূর্বাভাসে’ এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্যের বরাত দিয়ে সরকারি সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে বিগত ৭ দিন স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামী ৭ দিন স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও পরবর্তী ৩ দিন (২৬ এপ্রিল হতে ২৯ এপ্রিল) বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওড় অববাহিকার প্রধান নদীসমূহ তথা ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীসমূহে পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহে পানির সমতল হ্রাস পেয়েছে। তবে নদীসমূহ প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সরদার উদয় রায়হানের স্বাক্ষর করা বিশেষ বার্তায় এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এদিন দুপুরে সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী (দায়িত্বরত কর্মকর্তা) মোস্তফা কামাল জিহানের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহে পানির সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে, ধনু-বাউলাই নদীসমূহে পানির সমতল আগামী ১ দিন বৃদ্ধি ও পরবর্তী ২ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে, অপরদিকে ভুগাই-কংস নদীসমূহে পানির সমতল আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে; নদীসমূহ প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সংস্থাটি আরো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীমঙ্গলে (মৌলভীবাজার) ৬০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া মুন রেলওয়ে ব্রিজে (মৌলভীবাজার) বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪১ মি.মি.।
পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, তাদের পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনের ৪৬টির মধ্যে ২৭টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর হ্রাস পেয়েছে ১৬টিতে। তবে অপরিবর্তিত আছে ৩টিতে।
দিনভিত্তিক পূর্বাভাস
১ম দিন (২০ এপ্রিল, সকাল ৯টা পর্যন্ত) মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পানির সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
২য় দিন (২১ এপ্রিল, সকাল ৯টা পর্যন্ত) মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
৩য় দিন (২২ এপ্রিল, সকাল ৯টা পর্যন্ত) মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পানির সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
৪র্থ দিন (২৩ এপ্রিল, সকাল ৯টা পর্যন্ত) মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
৫ম দিন (২৪ এপ্রিল, সকাল ৯টা পর্যন্ত) হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
৬ষ্ঠ দিন (২৫ এপ্রিল, সকাল ৯টা পর্যন্ত) হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
৭ম দিন (২৬ এপ্রিল, সকাল ৯টা পর্যন্ত) হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এএম/এফএ




