মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকেই মানুষের জীবনযাত্রা বদলে গেছে। মানুষ এখন অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর। স্মার্টফোনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বেড়েছে। কর্মক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে কাজ করছে রোবট। যা রীতিমতো শঙ্কার কারণ। কেননা, রোবটের উত্থানের ফলে মানুষের কাজ হারানোর শঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে রোবট মানুষের কাজের অনেকটাই ভাগ বসাবে।
২০২৩ সালে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার মতো মূল ধারার সোশ্যাল মিডিয়া ব্র্যান্ড এক্সটেনডেন্ট রিয়েলিটি নিয়ে আসতে চলেছে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ্লিকেশনে।
এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটির মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে একটি বিকল্প দুনিয়া, যার নাম দেওয়া হয়েছে মেটাভার্স। আগামী দিনে তাদের এই উদ্যোগে যোগ দিতে চলেছে আরও ছোট বড় বেশ কয়েকটি সংস্থা।
ইতিমধ্যেই ফেসবুকে মিলছে নিজেদের অবতার তৈরির সুযোগ। আগামী বছরের মধ্যে সেই প্রকল্পে আরও আগাতে চলেছে জাকারবার্গের সংস্থা।
থ্রিডি পরিবেশ তৈরির কাজে হাত মিলিয়েছে অন্যান্য ছোটবড় স্টার্টআপ থেকে শুরু করে বহু সংস্থাই। ইতিমধ্যেই ওই প্রকল্পে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে মেটা।
সব মিলিয়ে ২০২৩ সালে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা মেটাভার্সের মাধ্যমে এক অন্যতম অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে চলেছেন।
শোনা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি অ্যাপল বাজারে আনতে চলছে একটি মিক্সড রিয়েলিটির হেডসেট। যার দামও হতে চলেছে বেশ চড়ার দিকেই। সনিও এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জগতে বড়সড় পদক্ষেপ রাখতে চলেছে তাদের প্লে স্টেশন ভিআর ২ এর মাধ্যমে।
শুধুমাত্র এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি নয়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ার আসতে চলেছে নতুন বছরে। আমাদের আশপাশে সব কিছুই এখন স্মার্ট। স্মার্টফোন থেকে স্মার্ট টিভি, এমনকি আলো,পাখা থেকে ঘড়ি। আমাদের একটা নির্দেশে চোখের নিমেষে সারা হয়ে যাচ্ছে সমস্ত কাজ।
আমাদের জীবনের অনেকটাই এখন এআই সিস্টেমের উপরেই নির্ভরশীল। ২০২৩ সালে সেই নির্ভরতা অনেকটাই বাড়বে। আগামী বছরে এআই চ্যাটবটসের রমরমা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় চ্যাটবট হল ওপেন এআই এবং চ্যাটজিপিটি ।
এআই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আগামী দিনে আর অনেক বেশি মানুষের মতো হয়ে উঠতে চলেছে রোবটেরা। বহু শিল্পক্ষেত্রে মানুষের বিকল্প হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে রোবটকে। যা লোকবল কমিয়ে কাজের মান উন্নত করতে সাহায্য করছে। মানুষের কাজ ক্রমশ কমিয়ে দিচ্ছে রোবট। সেটা একদিক থেকে যেমন আশার কথা, তেমনই দুশ্চিন্তারও। কারণ তাতে বহু সংখ্যক মানুষের কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা।
২০২৩ সালে সেই সম্ভাবনা আরও বাড়তে চলেছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এমন এক ধরনের রোবটের উপরে কাজ করছেন, যা দক্ষ ভাবে আপেল চাষে সহায়তা করছে। আপেল পাকা থেকে শুরু করে গাছ থেকে আপেল তোলা পর্যন্ত, সমস্ত ধাপের তথ্য সংগ্রহ করছে এআই-এর মাধ্যমে। ফলে মানুষের থেকেও দক্ষ ও নিপুণ ভাবে ওই কাজ সেরে ফেলছে রোবটেরা। প্রযুক্তির এই উন্নতির জের খুব শিগগিরই মানবজীবনে পড়তে চলেছে। আর জীবিকাহীন হতে চলেছেন বহু মানুষ, এমনটাই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহলের।
এজেড




