শীত আসছে। আর এই সময় অধিকাংশ বাড়িতেই এসি-র ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ঠান্ডার মৌসুমে ঘর ঠান্ডা করার প্রয়োজনও আর থাকে না। ফলে অনেকেই ভাবছেন, এসি ঢেকে তুলে রাখবেন, যাতে ধুলাবালি বা আর্দ্রতা মেশিনের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। কিন্তু জানেন কি, ভুল পদ্ধতিতে এসি ঢেকে রাখলে কিংবা কয়েকটি জরুরি বিষয় খেয়াল না রাখলে যন্ত্রের ক্ষতিও হতে পারে? তাই দীর্ঘদিনের জন্য এসি কভার করে রাখার পরিকল্পনা করলে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখুন। এতে আপনার এসি-র আয়ু বাড়বে এবং পরের মৌসুমের একেবারে ভালোভাবে কাজ করবে।
এসি-র জন্য সব সময় এমন কভার বেছে নিন, যা পানি ও ধুলোবালি প্রতিরোধ করতে পারে। বর্তমানে বাজারে নানা ধরনের এসি কভার পাওয়া যায়। তবে সব কভার আপনার মেশিনের জন্য উপযুক্ত নয়। প্লাস্টিকের কভার দেখতে ভালো হলেও এর ভেতরে আর্দ্রতা আটকে থাকতে পারে। এর ফলে ছত্রাক তৈরি হতে পারে, এমনকী পরবর্তী সময়ে এসি থেকে দুর্গন্ধও বের হতে পারে। এসি ঢাকার জন্য নন-ওভেন বা লেদারাইট উপাদানের কভার সবচেয়ে ভালো।

অনেকেই এসি বন্ধ করেই সরাসরি তার ওপর কভার চাপিয়ে দেন। এই অভ্যাস যন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। মৌসুম শেষ হওয়ার পর এসি ঢাকার আগে তার ফিল্টার, ফ্যান এবং আউটডোর ইউনিট ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এসির ভিতরে ধুলাবালি বা আর্দ্রতা জমে থাকলে দীর্ঘদিনের জন্য তা যন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।
অনেকেই শুধু ঘরের ভেতরে থাকা ইনডোর ইউনিটটি কভার করেন। কিন্তু আউটডোর ইউনিটটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাইরের ইউনিটে ধুলাবালি, বৃষ্টির পানি কিংবা পোকামাকড়ের প্রভাব পড়তে পারে। তাই দুইটি ইউনিটই উপযুক্ত কভার দিয়ে ঢেকে রাখুন।

এসি ঢাকার সময় অনেকেই ধুলাবালি আটকানোর জন্য কভারটি খুব শক্ত করে বেঁধে দেন। কিন্তু এই অভ্যাস একেবারেই ঠিক নয়। অতিরিক্ত আঁটসাঁট কভারের কারণে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ভেতরে আর্দ্রতা জমার আশঙ্কা থাকে। তাই কভার লাগানোর সময় সামান্য ফাঁকা রাখা জরুরি।
আরও পড়ুন: শীতকালে কি ফোন স্লো চার্জ হয়? জানুন আসল সত্যিটা
দীর্ঘদিন এসি কভার করে রাখলে প্রতি ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ অন্তর কভার খুলে মেশিনটি পরীক্ষা করুন। ভেতরে কোথাও ছত্রাক তৈরি হয়েছে কি না, দুর্গন্ধ বের হচ্ছে কি না কিংবা আর্দ্রতা জমেছে কি না, তা ভালোভাবে দেখে নিন। এতে আগে থেকেই সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং এসি-র ক্ষতি এড়ানো যাবে।
এজেড




