বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ফোনে ফুল নেটওয়ার্ক থাকলেও ইন্টারনেট স্লো? জানুন আসল কারণ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ এএম

শেয়ার করুন:

ফোনে ফুল নেটওয়ার্ক থাকলেও ইন্টারনেট স্লো? জানুন আসল কারণ
ফোনে ইন্টারনেট স্লো কাজ করলে কী করবেন?

বাড়ির কোনো একটি কোণে গেলেই অনেক সময় ফোনের ইন্টারনেটের গতি হঠাৎ কমে যায়। আবার কখনো ফোনে ফুল নেটওয়ার্ক দেখালেও ইন্টারনেট চলে অত্যন্ত ধীর গতিতে। তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, এমনটা কেন হচ্ছে? এই পরিস্থিতিতে অনেকেই টেলিকম সংস্থাগুলোকে দোষারোপ করেন।

কিন্তু সব সময় এর জন্য টেলিকম সংস্থাগুলো দায়ী নয়। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে আপনার নিজের ফোন। আসলে ফোনে যে সিগন্যাল দেখা যায়, তা শুধু জানায় যে আপনার ফোন কাছের মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে কতটা ভালোমতো সংযুক্ত রয়েছে। এর সঙ্গে ইন্টারনেটের গতির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি অনেকটা এমন যে, আপনি হাইওয়েতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন; রাস্তা বেশ ভালো, কিন্তু সেখানে ভয়াবহ যানজট। ফলে আপনার গাড়ির গতি কমে যাবে। ঠিক তেমনই, ফুল নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেট স্লো হতে পারে।

মোবাইল টাওয়ারে অতিরিক্ত চাপের কারণে ফুল সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেট স্লো হতে পারে। একে নেটওয়ার্ক কনজেশন বলা হয়। অর্থাৎ, একটি মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ সংযুক্ত থাকেন। আপনি যখন কোনো ব্যস্ত জায়গা, শপিং মল, রেল স্টেশন কিংবা সন্ধেবেলায় বাড়িতে থাকেন, তখন আশপাশের হাজার হাজার মানুষ একই মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। প্রতিটি মোবাইল টাওয়ারের ডেটা সরবরাহ করার একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতা থাকে, যাকে ব্যান্ডউইথ বলা হয়। একই সময়ে অনেক মানুষ যখন এইচডি ভিডিও স্ট্রিম করেন, ফাইল ডাউনলোড করেন কিংবা অনলাইন গেম খেলেন, তখন টাওয়ারের ডেটা সরবরাহের ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। 

আপনার ফোনে টাওয়ার থেকে পর্যাপ্ত সিগন্যাল পৌঁছানোর কারণে ফুল নেটওয়ার্ক দেখাতে পারে, কিন্তু দ্রুত ইন্টারনেট দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ তখন আর অবশিষ্ট থাকে না। এ ছাড়া আপনার ফোন কোন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। লো-ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড দেওয়াল ভেদ করে বাড়ির ভিতরে ভালো সিগন্যাল পৌঁছে দিতে পারে, কিন্তু হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের তুলনায় এই ব্যান্ডে ডেটার গতি অনেকটাই কম হতে পারে।

1793800200_5G-internet-slow-2026-08-fee0e58107c6c8f8ab5a62a6f627e098

অনেক সময় নেটওয়ার্কের ত্রুটির কারণে নয়, সমস্যার মূল কারণ হতে পারে আপনার স্মার্টফোনটি। ফোনে এমন অনেক অ্যাপ থাকে, যেগুলো আমরা ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে নীরবে ডেটা ব্যবহার করতে থাকে। ক্লাউডে ছবির অটো ব্যাকআপ, প্লে স্টোরে অ্যাপের স্বয়ংক্রিয় আপডেট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের নিয়মিত নোটিফিকেশন সিংকের মতো বিষয়গুলোর কারণে ইন্টারনেটের গতি অনেকটাই কমে যেতে পারে। এর পাশাপাশি আপনার ফোনে ডেটা সেভার বা ব্যাটারি সেভার মোড চালু থাকলেও ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। ব্যাটারি ও ডেটা সাশ্রয়ের জন্য ফোন নিজেই কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। আরও একটি বড় কারণ হলো ফোনের ক্যাশ মেমোরি এবং পুরনো নেটওয়ার্ক ক্যাশ। আপনি যদি দীর্ঘদিন ফোন রিস্টার্ট না করেন, তা হলে নেটওয়ার্ক কনফিগারেশনে ছোটখাটো সমস্যা তৈরি হতে পারে। আবার আপনি যদি ভিপিএন ব্যবহার করেন, তবে আপনার ডেটা অন্য কোনো দেশের সার্ভারের মাধ্যমে আসার কারণে ফুল নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেটের গতি কমে যায়।

আরও পড়ুন: ফোনের ক্যামেরার পাশে ছোট্ট ছিদ্রের আসল কাজ কী?

ফুল সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেটের কম গতিতে আপনিও যদি বিরক্ত হন, তবে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি চেষ্টা করে দেখতে পারেন। সবচেয়ে কার্যকর একটি পদ্ধতি হলো এয়ারপ্লেন মোড চালু করা। ফোনে ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ডের জন্য ফ্লাইট মোড চালু রেখে তারপর বন্ধ করে দিন। এতে ফোনটি পুরনো বা অতিরিক্ত ব্যস্ত নেটওয়ার্ক সংযোগ ছেড়ে নতুন করে উপলব্ধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।

দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংসে গিয়ে রিসেট নেটওয়ার্ক সেটিংস করা। পাশাপাশি অ্যাক্সেস পয়েন্ট নেম সেটিংস ডিফল্ট অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারেন। আপনার এলাকায় যদি বারবার ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে সমস্যা হয়, তবে কিছুক্ষণের জন্য ফাইভ-জির পরিবর্তে ফোর-জি বা এলটিই ব্যবহার করে দেখতে পারেন। কারণ অনেক সময় ধীরগতির ফাইভ-জির তুলনায় স্থিতিশীল ফোর-জি নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট অনেক ভালো কাজ করে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর