টেলিযোগাযোগ সেবার গণ্ডি ছাড়িয়ে বিনোদন, সংবাদ ও দৈনন্দিন জীবনের নানা ডিজিটাল সুবিধা একই প্ল্যাটফর্মে আনছে বাংলালিংক। এ লক্ষ্যে নিজেদের সেলফ সার্ভিস অ্যাপ ‘মাইবিএল’ পরিবর্তন করে ‘মুক্ত’ নামে নতুন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে দেশের যেকোনো মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সেবা নিতে পারবেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলালিংক জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রথম টেলকো-অ্যাগনস্টিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘মুক্ত’ অ্যাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, দেশের যেকোনো মোবাইল নম্বর কিংবা বিশ্বের যেকোনো দেশের মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করা যাবে। ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে একটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন সেবা নেওয়া সম্ভব হবে।
অ্যাপটিতে টেলিযোগাযোগ সেবার পাশাপাশি গান ও গল্প শোনা, ইসলামিক পরামর্শ, সর্বশেষ খবর এবং খেলা দেখার সুবিধা থাকবে। এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ডিজিটাল ও লাইফস্টাইল সেবাও যুক্ত করা হবে।
ব্যবহারকারীর পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী সেবা দেওয়ার জন্য এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক পার্সোনালাইজেশন ফিচার রাখা হয়েছে। এ ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর আগ্রহ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার সুপারিশ করবে অ্যাপটি। নিজের মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের নম্বরেও বিভিন্ন সেবা পরিচালনার সুযোগ থাকবে।
বাংলালিংকের চিফ মার্কেটিং অফিসার কাজী মাহবুব হাসান বলেন, গ্রাহকদের টেলিযোগাযোগ সেবার চাহিদার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য প্রয়োজন বোঝার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, ‘গ্রাহককে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ হলো, সংযোগ সেবার বাইরেও তাঁদের নানা ধরনের প্রয়োজন রয়েছে, তা বোঝা। মানুষ তাদের ডিজিটাল জীবনকে কোনো নির্দিষ্ট মোবাইল অপারেটরের সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না। তারা এমন প্রযুক্তি চায়, যা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশে গিয়ে জীবনকে আরও সহজ, সুবিধাজনক ও ব্যক্তিগত পছন্দের উপযোগী করে তুলবে। মুক্তর মাধ্যমে আমরা এসব সেবা এক জায়গায় নিয়ে আসতে চাই, যাতে সবাই তা ব্যবহার করতে পারেন।’
‘মুক্ত’ চালুর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল সেবা দেওয়ার কৌশলেও পরিবর্তন আনছে বাংলালিংক। আগে প্রতিষ্ঠানটি মূলত নিজেদের গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল সেবা তৈরি করলেও নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সব মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকদের কাছে এসব সেবা পৌঁছে দিতে চায় তারা।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, গ্রাহককেন্দ্রিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল সুবিধাকে আরও সহজলভ্য ও ব্যবহারোপযোগী করে তোলা।
টিএই/এএম




