এখন স্মার্ট টিভি, মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ পরিচালনার জন্য প্রতিটি বাড়িতে ইন্টারনেট একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা পেতে অনেকেই বাসাবাড়িতে ওয়াইফাই সংযোগ নিচ্ছেন এবং ওয়াইফাই রাউটারটি হয়ে উঠেছে ঘরের অন্যতম প্রয়োজনীয় যন্ত্র। তবে সংযোগ নেওয়ার পর রাউটারটি কোথায় স্থাপন করা হচ্ছে, তার ওপর ইন্টারনেটের আসল গতি এবং সিগন্যালের কভারেজ অনেকাংশে নির্ভর করে। সঠিক স্থানে না রাখলে কাঙ্ক্ষিত স্পিড পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
অনেকেই সাধারণত সুবিধা ও প্লাগ পয়েন্টের কাছাকাছি হওয়ায় ঘরের টিভি ইউনিটের পাশে বা টিভির পেছনে রাউটার স্থাপন করেন। যদিও আধুনিক টিভি ও উন্নত প্রযুক্তির রাউটার একে অপরের তরঙ্গে সরাসরি বিশাল কোনো বিঘ্ন ঘটায় না, তবুও টিভির পাশে রাখা একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ভিড় সিগন্যাল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে। টিভি ইউনিটে সেট-টপ বক্স, সাউন্ডবার, গেমিং কনসোল ও অসংখ্য তারের জটলা থাকার কারণে ওয়াইফাই তরঙ্গের স্বাভাবিক ব্যাপ্তি ব্যাহত হয়।

বিশেষ করে টিভির ভেতরের ধাতব প্যানেল, শক্ত দেয়াল কিংবা বন্ধ কাঠের ক্যাবিনেটের ভেতরে রাউটার রেখে দিলে তরঙ্গের বিস্তার সব ঘরে সমানভাবে পৌঁছাতে পারে না। ফলে রাউটার থেকে একটু দূরের ঘরগুলোতে ওয়াই-ফাইয়ের স্পিড একদম কমে যায়। এছাড়া মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মতো শক্তিশালী তরঙ্গের ইলেকট্রিক ডিভাইস এবং বড় কোনো ধাতব বস্তুর খুব কাছে রাউটার রাখা হলে সিগন্যালের মান মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়।
আরও পড়ুন: পুরনো ফোনের ক্যামেরা দিয়ে বানিয়ে নিন ওয়েবক্যাম
বাসাবাড়ির প্রতিটি কোণে উচ্চগতির ইন্টারনেট কভারেজ পেতে হলে রাউটার রাখার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক বিষয় মেনে চলা প্রয়োজন। রাউটার সবসময় ঘরের কেন্দ্রীয় বা মাঝখানের স্থানে খোলা জায়গায় রাখা উচিত। পাশাপাশি এটি মেঝেতে না রেখে মাটি থেকে অন্তত চার থেকে পাঁচ ফুট উঁচুতে টেবিল বা ওয়ালের ওপর স্থাপন করা ভালো। এতে করে ওয়্যারলেস তরঙ্গ চারদিকে বাধাহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতি উপভোগ করা সম্ভব হয়।
এজেড




