মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাস সর্বনাশা হতে পারে, এআই থেকে সাবধান!

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩ এএম

শেয়ার করুন:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত তথ্য? জেনে নিন বাঁচার উপায়

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন অনেক কাজই চোখের নিমেষে করে ফেলছে। চিঠি লেখা থেকে শুরু করে মিটিংয়ের নোট নেওয়া বা কখন দাঁত মাজবেন, তার রিমাইন্ডার সেট করে দেওয়া—সবকিছুই করছে এআই। যে এআই টুলগুলি আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে, সেগুলির বেশিরভাগই ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ বা এলএলএম। কিন্তু এই প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু ক্ষেত্রেই প্রাইভেসি নষ্ট হচ্ছে, যা থেকে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম। তাই প্রশ্ন জাগে, কী ভাবে এই প্রাইভেসি রক্ষা করেই যাতায়াত করা যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আনাচ-কানাচে?

বর্তমানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলাটা রোজকার দস্তুর। তবে নিজের অজান্তে অনেকেই ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে ফেলেন ওই চ্যাটবটের সঙ্গে। সেই তথ্যই হাতিয়ে নিয়ে সাইবার ক্রাইম চালাচ্ছে সাইবার জালিয়াতরা। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে, এআই টুলের সঙ্গে কথা বলা ৭০ শতাংশ মানুষই ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করেন এবং ৩৮ শতাংশ মানুষ এমন কিছু তথ্য দিয়ে দেন, যা পরে সাইবার জালিয়াতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই টুলের সঙ্গে চ্যাট করার সময়ে ঠিকঠাক এবং পরিমিত কথা বলা বিশেষ ভাবে জরুরি, না হলেই বিপদ আসন্ন।

আরও পড়ুন: ডিলিট করা চ্যাটজিপিটি চ্যাট কি ফিরে পাওয়া যায়? জানুন সঠিক নিয়ম

কয়েকটা হাতে-গরম নজির দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। হয়তো কেউ চ্যাট বটকে বলল, ‘তুমি আমার সম্পর্কে যা জানো, তার ভিত্তিতে বলো, আমার পার্সোনালিটি কেমন?’ এই ধরনের প্রশ্ন করলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেকে আরও বেশি ধারালো করার জন্য বেশ কিছু পাল্টা প্রশ্ন জানতে চাইবে। সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে অনেকেই জানিয়ে দেবেন জন্মের স্থান, তারিখ কিংবা শখ, পেশার মতো যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য। এই তথ্যগুলো ইন্টারনেটের ওপেন স্পেস-এর মধ্যে থেকে যায়, যা পরে হাতিয়ে নেয় সাইবার জালিয়াতরা।

তাই প্রশ্ন খুব ভেবে-চিন্তে করা দরকার। যেমন ‘১৫ ডিসেম্বর আমার জন্মদিন, আমি সাইক্লিং করতে খুব ভালোবাসি, বলো তো আমার সম্পর্কে আর কী জানো?’—এই ধরনের প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এর পরিবর্তে প্রশ্ন করা যেতে পারে, ‘ডিসেম্বর মাসে জন্ম নেওয়া একজনের পার্সোনালিটি কেমন হওয়া উচিত?’ পার্থক্যটা খুব সূক্ষ্ম হলেও তার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আসল নিরাপত্তা। কখনওই সরাসরি কোনও ডেটা এআই-এর কাছে শেয়ার করা উচিত নয়।

বাবা-মায়েদেরও কখনওই সন্তানের নাম, স্কুলের নাম বা সারাদিনের রুটিন এআই-কে জানানো উচিত নয়। এই রকম তথ্যের ভিত্তিতে সাইবার জালিয়াতরা ফোন করে বলতেই পারে যে, আপনার ছেলে বা মেয়ে তাদের কাছে পণবন্দী আছে এবং মুক্তির জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা দাবি করতে পারে। তাই ছোট্ট কিছু ভুল এড়িয়ে চললেই বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

পাশাপাশি, কখনওই চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের সময়ে কোনও রোগের তথ্যও শেয়ার করা উচিত নয়। অনেকেই হামেশাই এই ভুলটা করে প্রশ্ন করে বসেন, ‘আমার ফ্যামিলি হিস্ট্রিতে বিশেষ এই রোগটি আছে, আমার কি কোনও সমস্যা হতে পারে?’ এটি একদমই উচিত নয়। নিজে সুরক্ষিত কি না তা জানতে সরাসরি ব্যক্তিগত তথ্য না দিয়ে বরং বিশেষ সেই রোগটার উপসর্গ বা সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে এআই-এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এতে যেমন সমস্যাও মেটে, তেমনই বিপদের সম্ভাবনাও থাকে না। সব মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে, সুরক্ষিত থাকার সম্পূর্ণ উপায় নিজের হাতেই রয়েছে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর