অফিসের কাজ, পড়াশোনা বা একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানোর সময় ল্যাপটপের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক হলেও অনেকক্ষণ ব্যবহার করার পর যদি ল্যাপটপ অস্বাভাবিক গরম হয়ে যায়, ফ্যানের শব্দ বেড়ে যায় বা হঠাৎ কাজের গতি কমে যায়, তবে তা চিন্তার বিষয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পারফরম্যান্স কমার পাশাপাশি হার্ডওয়্যারের উপরও বড় ধরনের চাপ পড়তে পারে।
ল্যাপটপের প্রসেসর ও গ্রাফিক্স প্রসেসর কাজ করার সময় স্বাভাবিকভাবেই তাপ তৈরি করে। তবে ভারী সফটওয়্যার, ভিডিয়ো এডিটিং, গেম বা একসঙ্গে অনেকগুলো অ্যাপ চালালে এই তাপ মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়ে। এছাড়া কুলিং ফ্যান ও ভেন্টে ধুলা জমে গেলে গরম বাতাস বাইরে বের হতে পারে না। বিছানা, বালিশ বা নরম জায়গার উপর ল্যাপটপ রাখলেও ভেন্ট বন্ধ হয়ে তাপ আটকে যায়। গরম ঘরে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার, ফ্যানের সমস্যা বা পুরোনো থার্মাল পেস্টও অতিরিক্ত গরম হওয়ার অন্যতম কারণ।
এই সমস্যা এড়াতে প্রথমেই ল্যাপটপ ব্যবহারের জায়গাটা বদলানো জরুরি। ল্যাপটপ সবসময় শক্ত, সমতল জায়গার ওপর রাখুন এবং বিছানা বা সোফার উপর রেখে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। ভেন্ট ও ফ্যানের মুখ যেন কোনওভাবে ঢাকা না পড়ে, সেদিকে সবসময় খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে সঠিক বায়ু চলাচলের জন্য ল্যাপটপ স্ট্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে।
ল্যাপটপ ঠান্ডা রাখতে এর ভেন্ট এবং ফ্যানের আশপাশে ধুলা জমেছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। নরম ব্রাশ দিয়ে বাইরের অংশ পরিষ্কার করা যেতে পারে, তবে খুব জোরে ধুলা ঝাড়বেন না এবং ধারালো কিছু দিয়ে ভেন্ট খোঁচাবেন না।

একসঙ্গে অনেকগুলো সফটওয়্যার বা ব্রাউজার ট্যাব খোলা থাকলে প্রসেসরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই টাস্ক ম্যানেজার বা সংশ্লিষ্ট সিস্টেম টুলে গিয়ে কোন অ্যাপ বেশি সিপিইউ ব্যবহার করছে তা দেখে প্রয়োজন না থাকলে সেই অ্যাপগুলো বন্ধ রাখুন।
আরও পড়ুন: বৃষ্টির পানিতে ফোন ভিজলে তাৎক্ষণিকভাবে যে কাজগুলো করবেন
ল্যাপটপের পাওয়ার সেটিংসেও নজর দেওয়া দরকার। পাওয়ার মোডে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের পরিবর্তে ব্যালেন্সড বা ব্যাটারি সেভার অপশন ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রে ল্যাপটপের তাপ ও বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এতকিছুর পরেও যদি ল্যাপটপ বারবার অতিরিক্ত গরম হয়, নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায় বা ফ্যান থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসে, তবে দেরি না করে দ্রুত অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে দেখানো উচিত।
এজেড




