সকালবেলা অফিস বা কলেজে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করে বের হওয়ার সময় দাড়ি-গোঁফ ট্রিম করার পর আমরা প্রায়ই চার্জার বের করে বাথরুমের আয়নার পাশের সকেটেই ট্রিমারটি চার্জে বসিয়ে দিই। ট্রিমার তো বাথরুমেই ব্যবহার করা হয়, তাই এখানেই চার্জ করা সুবিধাজনক— এই সাধারণ চিন্তাধারা থেকেই অনেকের এটি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বাথরুমে ট্রিমার চার্জে বসানো কি আদতেই নিরাপদ? বাথরুমে ট্রিমার চার্জ করলে ঠিক কী ধরনের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং ডিভাইসটি চার্জ করার সঠিক জায়গা কোনটি, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তাড়াহুড়া করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ট্রিমারটি বাথরুমের বাইরে এনে বেডরুমে চার্জে বসাতে বেশিরভাগ মানুষেরই আলস্য লাগে। ওয়াশ বেসিন বা আয়নার ঠিক পাশে সকেট থাকার কারণে আমরা ট্রিমারটি সেখানেই প্লাগ ইন করে রেখে দিই। কিন্তু চার্জিংয়ের সময় ওই বন্ধ বাথরুমের ভেতরে আসলে কী ঘটছে, সেদিকে কারও খেয়াল থাকে না। গোসল করার পর বা দীর্ঘক্ষণ কল চলার কারণে বাথরুমের বাতাসে প্রচুর আর্দ্রতা এবং জলীয় বাষ্প জমে থাকে। ট্রিমারটি চার্জে বসানো থাকা অবস্থায় এই আর্দ্রতা চার্জারের পিন এবং ট্রিমারের চার্জিং পোর্টের আশপাশে জমা হতে শুরু করে এবং তা দ্রুত সূক্ষ্ম ইলেকট্রনিক সার্কিটের ভেতরে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

অনেকেই হয়তো ভাবেন যে তাদের ট্রিমারটি তো পানিরোধী বা ওয়াটারপ্রুফ, তাই পানি বা আর্দ্রতায় কিছু হবে না। কিন্তু আসল সত্য হলো, ট্রিমারের কেবল বাইরের ব্লেড বা বডি পানিরোধী হতে পারে, কিন্তু এর ভেতরের চার্জিং পোর্ট, চার্জিং ক্যাবল এবং দেওয়ালে লাগানো বৈদ্যুতিক সকেট সাধারণত পানিরোধী হয় না। অতিরিক্ত আর্দ্রতার সংস্পর্শে এলে ভেতরের ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশে মরিচা এবং ক্ষয় ধরতে পারে। এর ফলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সাধের ট্রিমারটি নষ্ট হয়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া চার্জিংয়ের সময় বাতাসে থাকা আর্দ্রতা বা ভুলবশত পানির ফোঁটা সকেটে পৌঁছে গেলে শর্ট সার্কিট হওয়া এবং ভয়াবহ আগুন লাগার ঝুঁকিও তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, এমন আর্দ্র পরিবেশে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে ফুলে উঠতে পারে। সবচেয়ে বড় বিপদ ঘটে যখন গোসল করার পর হাত-পা ভেজা থাকা অবস্থায় সকেট স্পর্শ করা হয়, যার ফলে তীব্র বৈদ্যুতিক শক লাগার মারাত্মক আশঙ্কা থাকে।
এই সমস্ত বিপদ এড়াতে বাথরুমে ভুলেও কখনো ট্রিমার চার্জে বসানো উচিত নয়। বাতাসে উপস্থিত আর্দ্রতা ট্রিমারের ভেতরের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিসাধন করে। এর ফলে ব্যাটারির ব্যাকআপ দ্রুত কমে যায়, চার্জ নিতে অনেক বেশি সময় নেয় এবং সময়ের সঙ্গে ট্রিমারটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে।

সর্বোপরি, আর্দ্রতার সঙ্গে বিদ্যুতের এই সংমিশ্রণ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত বিপজ্জনক। ট্রিমার সবসময় বাথরুমের বাইরে শোবার ঘর, বসার ঘর কিংবা পড়াশোনার ঘরের মতো পুরোপুরি শুানো এবং ভালো বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে টেবিলের ওপর রেখে চার্জ করা উচিত।
আরও পড়ুন: এলইডি বাল্ব নাকি টিউবলাইটে বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়?
ব্যবহার বা ধোয়ার পর ট্রিমার ভিজে গেলে তা প্রথমে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে নিন এবং সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পরেই কেবল চার্জে বসান। কোনো কারণে যদি বাথরুমেই চার্জ করা একান্ত প্রয়োজন হয়, তবে এমন সকেট ব্যবহার করা উচিত যা পানির ছিটে থেকে সুরক্ষিত এবং উপযুক্ত পানিরোধী ঢাকনা দিয়ে ঢাকা থাকে। তবে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে চার্জিংয়ের সময় ট্রিমার এবং সকেটকে সব ধরনের পানি থেকে দূরে রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
এজেড





