একটা সময় এমন ছিল, যখন নতুন ফোন কেনার অর্থ শুধুমাত্র অ্যাপেল বা স্যামসাং বেছে নেওয়া ছিল না। ভারত ও বাংলাদেশের বাজারে মাইক্রোম্যাক্স এমন একটি নাম ছিল, যা কম দামে বড় ফিচার দিয়ে মানুষের মধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল। দোকান থেকে বাড়ি— সব জায়গায় এই কোম্পানির ফোন দেখা যেত। এমনকি তারা স্যামসাংকে পেছনে ফেলে ভারতীয় স্মার্টফোনের বাজারে এক নম্বর স্থান দখল করেছিল এবং হিউ জ্যাকম্যানের মতো বড় হলিউড তারকাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করেছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আজ বাজার থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে।
২০০৮ সালের আশপাশে মোবাইল ব্যবসায় পা রাখা রাহুল শর্মা, রাজেশ আগরওয়াল, বিকাশ জৈন এবং সুমিত কুমারের এই কোম্পানি মূলত দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ এবং ডুয়াল-সিম ফিচারের ফোন এনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

২০১৪ সালে ক্যানভাস সিরিজের হাত ধরে স্যামসাংকে টপকে তাদের বাজারমূল্য প্রায় একুশ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে গবেষণা ও উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব এবং শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে না পারার কারণে তারা পিছিয়ে পড়তে শুরু করে।
আরও পড়ুন: দেশে লঞ্চ হলো ভিভো ভি৮০ লাইট ফাইভজি

বিশেষ করে রিলায়েন্স জিও আসার পর ফোর-জি (4G) বিপ্লবের গতি ধরতে না পারা মাইক্রোম্যাক্সের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে, কারণ তখন তাদের অধিকাংশ ফোনই টু-জি (2G) এবং থ্রি-জি (3G) ভিত্তিক ছিল। এই সুযোগে শাওমি, ভিভো, অপ্পো এবং ওয়ানপ্লাসের মতো বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো উন্নত প্রযুক্তি ও কম খরচে দুর্দান্ত ফিচার নিয়ে বাজার দখল করে নেয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে 'ইন' সিরিজের মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারতের স্লোগান তুলে কামব্যাকের চেষ্টা করলেও পরিবর্তিত বাজারে গ্রাহকদের মন জয় করতে পারেনি কোম্পানিটি।
এজেড




