দীর্ঘদিন ব্যবহার করার পর স্মার্টফোনের গতি কমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। ফোনে অতিরিক্ত অ্যাপের জট, অপ্রয়োজনীয় ফাইলের পাহাড়, ইন্টারনাল স্টোরেজ কমে যাওয়া এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা বিভিন্ন প্রসেসের কারণে সাধের ডিভাইসটি অনেক সময় ধীরগতির হয়ে পড়ে। তবে নতুন ফোন কেনার কথা না ভেবে, কিছু সহজ ও কার্যকরী কৌশল মেনে চললেই পুরনো ফোনের পারফরম্যান্স অনেকটাই বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই ৫টি দুর্দান্ত উপায়-
১. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও গেম আনইনস্টল করুন
স্মার্টফোনের গতি বাড়ানোর প্রথম পদক্ষেপ হলো অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ছাঁটাই করা। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না এমন অ্যাপগুলো শুধু ফোনের মূল্যবান স্টোরেজই দখল করে রাখে না, বরং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থেকে প্রসেসরের ওপর চাপ বাড়ায়। তাই যেসব অ্যাপ বা বড় আকারের গেমের আর কোনো প্রয়োজন নেই, সেগুলো আজই আনইনস্টল করে দিন।
আরও পড়ুন: স্মার্টফোনে সবুজ-কমলা-নীল আলো জ্বলার কারণ কী? না জানলেই বিপদ
২. স্টোরেজ খালি রাখুন
ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেলে এর কার্যক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। তাই অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, ডাউনলোড করা ফাইল এবং পুরোনো ডকুমেন্টগুলো ডিলিট করে দিন। কিংবা এগুলো গুগ ড্রাইভ বা অন্য কোনো ড্রাইভে ব্যাকআপ রেখে ফোন থেকে মুছে ফেলুন। সবসময় চেষ্টা করুন ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজে অন্তত কিছু জায়গা ফাঁকা রাখতে।
৩. নিয়মিত ক্যাশ (Cache) পরিষ্কার করুন
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ইমরানের মতে, নিয়মিত বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করার ফলে ফোনে প্রচুর ক্যাশ ফাইল বা টেম্পোরারি ডেটা জমে যায়। নিয়ম করে অ্যাপগুলোর ক্যাশ পরিষ্কার করলে কিছুটা স্টোরেজ খালি হয় এবং ফোন দ্রুত কাজ করে। তবে ‘Clear Data’ দেওয়ার সময় একটু সতর্ক থাকুন, কারণ এতে অ্যাপে আপনার লগইন করা অ্যাকাউন্ট বা সংরক্ষিত তথ্য মুছে যেতে পারে।

৪. ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট কমান
একসঙ্গে অনেকগুলো অ্যাপ ওপেন করে রাখা, লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করা কিংবা অতিরিক্ত উইজেটের ব্যবহার ফোনের র্যাম ও প্রসেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বন্ধ রাখুন এবং ফোনের অপ্রয়োজনীয় অ্যানিমেশন বা ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট কমিয়ে দিন। ছোট এই পরিবর্তনটি পুরনো ফোনের গতি বাড়াতে দারুণ কাজ করে।
৫. সফটওয়্যার আপডেট এবং ফ্যাক্টরি রিসেট
সবশেষে, ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট আছে কি না তা চেক করুন এবং মাঝেমধ্যে ফোন রিস্টার্ট করুন। এত কিছুর পরও যদি ফোনের গতি না বাড়ে, তবে গুরুত্বপূর্ণ ডাটা বা তথ্যের ব্যাকআপ রেখে ফোনটি ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ (Factory Reset) করতে পারেন। তবে যদি সমস্যাটি ব্যাটারি বা অন্য কোনো হার্ডওয়্যারজনিত হয়, তবে দেরি না করে সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এজেড




