বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের বাজারে মন্দাবস্থার মধ্যে চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) অনারের স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ডেটা করপোরেশন (আইডিসি) এবং ওমডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এই প্রবৃদ্ধির হাত ধরে বৈশ্বিক অ্যান্ড্রয়েড বাজারে শীর্ষে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ব্র্যান্ডটি। এছাড়া, বিশ্ববাজারে বার্ষিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী একমাত্র চীনা অ্যান্ড্রয়েড ফোন নির্মাতা হিসেবেও পরিচয় অর্জন করেছে অনার।
বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের সামগ্রিক চাহিদা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অনারের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। ওমডিয়ার তথ্যমতে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক স্মার্টফোন সরবরাহ ১৩ শতাংশ কমলেও অনারের সরবরাহ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে অনার। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ দুই ব্র্যান্ডের তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ব্র্যান্ডটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথমার্ধে আফ্রিকায় অনারের স্মার্টফোন সরবরাহ বার্ষিক ভিত্তিতে বেড়েছে ৫৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারেও ধারাবাহিকভাবে ব্যবসা বেড়েছে ব্র্যান্ডটির। বিশ্ববাজারে অনারের পণ্য বিক্রি ও আয় বেড়েছে যথাক্রমে ২০ এবং ২৬ শতাংশ।
আরও পড়ুন: স্মার্টফোন ফটোগ্রাফি: মোবাইল ফোনেই তুলুন ডিএসএলআরের মতো ছবি
এ বিষয়ে অনারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেমস লি বলেন, “বছরের প্রথমার্ধে অনারের সামগ্রিক অগ্রগতি আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এবং দেশের (চীন) বাজারেও ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে ৪০০ থেকে ৮০০ ডলারের প্রিমিয়াম সেগমেন্টের ফোনগুলোর প্রতি গ্রাহকদের দারুন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। মেমোরির বাড়তি খরচ ও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও চীনের বাজারে ব্যবসা পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
অনার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ল্যাং গুও বলেন, “বিভিন্ন বাজারে এই প্রবৃদ্ধি আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পন্যের উদ্ভাবনের পাশাপাশি এ অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে আমরা সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।”
স্মার্টফোনের পাশাপাশি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের ওপর জোর দিচ্ছে অনার। এর মাধ্যমে নিজেদেরকে একটি বিস্তৃত এআই ডিভাইস ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা ব্র্যান্ডটির লক্ষ্য।
এজেড




