ঘর ঠান্ডা রাখতে মানুষ নানা ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করেন। এয়ার কন্ডিশনার থেকে কুলার পর্যন্ত, গরমের সময় এই ডিভাইসগুলোর ব্যবহার অনেকটাই বেড়ে যায়। তবে সবার বাড়িতে এসি থাকে না, কিন্তু সিলিং ফ্যান এমন একটি যন্ত্র যা বেশিরভাগ বাড়িতেই দেখা যায়। গরমের দিনে ফ্যানের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়। তবে প্রায়ই দেখা যায়, অনেকে ফ্যানের গতি কমিয়ে রাখেন। কিন্তু সত্যিই কি এভাবে ফ্যানের গতি কমালে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়, নাকি বিদ্যুতের বিল বেশি আসে? অনেকের মনেই এই প্রশ্ন থাকে।
আপনি যখন ফ্যানের গতি কমান, তখন মোটরের ঘোরার গতি কমে যায়। তবে কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, তা নির্ভর করে ফ্যানের গতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে তার ওপর। আসলে পুরনো দিনের রেগুলেটরে প্রায়ই রোধভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো। এতে ফ্যানের গতি কমানোর সময় কিছু বিদ্যুৎ তাপ হিসেবে নষ্ট হয়ে যেত। তাই এই ধরনের পুরনো রেগুলেটর দিয়ে গতি কমালে খুব একটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় না।

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে এখন বাজারে এমন অনেক যন্ত্র এসেছে, যেগুলো মানুষের বিদ্যুতের বিল কমাতে সাহায্য করে। ফলে এখন অনেক বাড়িতে আধুনিক ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহার করা হয়। এগুলো ফ্যানের মোটরকে অন্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং কম গতিতে চালানোর ক্ষেত্রে পুরনো প্রযুক্তির তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। অর্থাৎ, কম গতিতে ফ্যান চালিয়ে বিদ্যুৎ বাঁচাতে আধুনিক রেগুলেটর ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: এই ফ্যানের বিদ্যুৎ খরচ অর্ধেক
আপনার লক্ষ্য যদি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা হয়, তাহলে বর্তমান সময়ের ব্রাশলেস ডিসি মোটরযুক্ত ফ্যান আপনার জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এই ফ্যানগুলোতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার ফলে কম বিদ্যুৎ খরচ করেও ভালো বাতাস পাওয়া যায়। এই ফ্যানগুলো পুরনো মোটরের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে কাজ করতে পারে।

গতি কমালে প্রতিটি ফ্যানে ঠিক কত ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ এটি সম্পূর্ণভাবে ফ্যানের মোটর, রেগুলেটর, গতি এবং কত ঘণ্টা ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। যেমন, কোনো সাধারণ ফ্যানের ক্ষমতা যদি প্রায় সত্তর থেকে আশি ওয়াট হয় এবং সেটি কম গতিতে চালানো হয়, তাহলে পূর্ণ গতির তুলনায় তার বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা কম হবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে গতি অর্ধেক করলে বিদ্যুৎ খরচও সরাসরি অর্ধেক হয়ে যাবে।
এজেড




