বাংলাদেশে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, জনআস্থা ও সামাজিক সংহতি জোরদার করতে সরকার, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ ও তরুণ প্রজন্মসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে তথ্যপ্রাপ্তি, যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি সেবা গ্রহণে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আস্থাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা শুধু অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জনআস্থা, সামাজিক সংহতি ও নাগরিকদের অর্থবহ অংশগ্রহণও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই নিরাপদ ও আস্থাভিত্তিক তথ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য পরিবেশে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং প্রচলিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে মানসম্মত কনটেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিকর, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্ট সমাজে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শিশু ও তরুণদের ওপর আরও বেশি পড়তে পারে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সময়ে সুশাসন ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে তথ্য যাচাই, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়ালেও এর মাধ্যমে অপতথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।
তিনি বলেন, তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করা সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্য ডেইলি স্টার নৈতিক সাংবাদিকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তথ্য যাচাই ও সত্যতা যাচাই কার্যক্রম আরও জোরদার করছে।
নীতি সংলাপে উপস্থাপিত ইউএনডিপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়, পর্যালোচনা করা অনলাইন কনটেন্টের অর্ধেকের বেশি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ধারণ করেছে। একই সঙ্গে এক-পঞ্চমাংশের বেশি কনটেন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কারসাজির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এতে ডিজিটাল তথ্য পরিবেশে উদীয়মান ঝুঁকির জটিলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন, ইউএনডিপি, ইউনেস্কো, ইউএনএফপিএ, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও অংশীদারদের উদ্যোগে এবং জার্মান সরকারের সহযোগিতায় এ নীতি সংলাপের আয়োজন করা হয়।
এমআর/এআর




