বর্ষাকালে অনেকেই অভিযোগ করেন, তাদের বাসা-বাড়ির ওয়াইফাই ইন্টারনেট স্লো হয়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন বৃষ্টির জন্যই এমনটা হয়, কিন্তু এর পেছনে মূলত অতিরিক্ত নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিক, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পরিকাঠামোগত ত্রুটি এবং ব্যাকহল সমস্যার মতো নানা বিষয় জড়িত থাকে।
বৃষ্টি এবং ইন্টারনেটের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক সবসময় জোরালো হয় না। হালকা বৃষ্টিতে মোবাইল বা ওয়াইফাইয়ের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির সিগন্যালের ওপর বিশেষ কোনো প্রভাব পড়ে না। তবে খুব ভারী বৃষ্টি, ঝড় বা খারাপ আবহাওয়ার কারণে বাইরের নেটওয়ার্ক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইন্টারনেট ধীরগতির হয়ে যেতে পারে।
বৃষ্টির সময় বাড়ির ওয়াইফাই স্লো হওয়ার কারণ শুধু সিগন্যাল নয়। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার থেকে রাউটার পর্যন্ত আসা সংযোগ, ফাইবার লাইন বা লোকাল কেবলে সমস্যা হলেও গতি কমে যায়। বিশেষ করে ঝড়ের সময় বাইরের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।

বৃষ্টির দিনে মানুষ সাধারণত ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটান এবং অবসর সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। একই এলাকায় অনেক মানুষ একসঙ্গে ভিডিও দেখা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বা অনলাইন গেম খেলায় মোবাইল টাওয়ার বা ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত ট্র্যাফিক বা লোড পড়ে। সীমিত ক্ষমতার ওপর এই চাপ পড়ার কারণে ইন্টারনেট স্লো মনে হয়।
মোবাইল নেটওয়ার্ক রেডিও তরঙ্গের ওপর নির্ভর করায় ভারী বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়া এর ফ্রিকোয়েন্সিকে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ভোল্টেজের ওঠানামাও একটি বড় কারণ। রাউটার বা মডেম পর্যাপ্ত ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ না পেলে সংযোগ অস্থির হয়ে যায় এবং বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে।
আরও পড়ুন: রাউটারের ওপর কয়েন রাখলে কি ওয়াইফাই স্পিড বাড়ে? জানুন আসল সত্য
মোবাইল টাওয়ার একা ব্যবহারকারীদের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয় না, এর জন্য ফাইবার বা ব্যাকহল সংযোগের প্রয়োজন হয়। ভারী বৃষ্টি, পানি জমে যাওয়া বা ঝড়ের কারণে এই পরিকাঠামোতে সমস্যা হলে টাওয়ার চালু থাকলেও ইন্টারনেটের স্পিড অত্যন্ত কমে যেতে পারে। তাই প্রতিবার বৃষ্টির জন্যই ইন্টারনেট স্লো হয় এমন নয়, বরং অতিরিক্ত ট্র্যাফিক, বিদ্যুতের সমস্যা কিংবা ব্যাকহল সংযোগের ত্রুটিও এর জন্য সমানভাবে দায়ী।
এজেড




