এখন প্রায় প্রত্যেকের হাতেই রয়েছে স্মার্টফোন। যোগাযোগ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব কাজেই এর ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে জীবনের ছোট ছোট সুন্দর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে স্মার্টফোনের তুলনা হয় না। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, একটি আধুনিক স্মার্টফোনে কেন তিনটি বা চারটি করে ক্যামেরা দেওয়া থাকে? এই প্রতিবেদনে প্রতিটি ক্যামেরার আলাদা কাজ ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
কেন একাধিক ক্যামেরার প্রয়োজন হয়?
ধরুন, আপনি বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন। সামনে বিশাল কোনো পাহাড় বা সুন্দর দৃশ্য রয়েছে, যা আপনি এক ফ্রেমে বন্দি করতে চান। কিন্তু ক্যামেরা অন করার পর দেখলেন পুরো দৃশ্যটি স্ক্রিনে আসছে না। ঠিক তখনই কাজে লাগে ফোনের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা, যা এক ফ্রেমে বিশাল জায়গা কভার করতে পারে। মূলত বিভিন্ন দূরত্বের ও কোণের ছবি নিখুঁতভাবে তোলার জন্যই ফোনে একাধিক লেন্স বা ক্যামেরা যুক্ত করা হয়।
প্রতিটি ক্যামেরার আলাদা কাজ ও ব্যবহার
স্মার্টফোনের প্রতিটি ক্যামেরার কার্যকারিতা সম্পূর্ণ আলাদা। নিচে প্রধান লেন্সগুলোর কাজ তুলে ধরা হলো-
প্রধান বা মেইন ক্যামেরা: এটি দৈনন্দিন ছবি তোলার জন্য সবচেয়ে উপযোগী এবং সাধারণত ১x মোডে কাজ করে। এই ক্যামেরায় সবচেয়ে বেশি মেগাপিক্সেল এবং সেরা লাইট সেন্সিং ক্ষমতা থাকে।
আরও পড়ুন: ফাঁস হলো মটোরোলা এজ ৭০ নিও ফোনের ডিজাইন
ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা: কোনো বড় বিল্ডিং, ল্যান্ডস্কেপ বা বড় কোনো মানুষের গ্রুপ ফটো এক ফ্রেমে আনতে এই ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এটি সাধারণত ০.৫x মোডে কাজ করে এবং অনেক বড় এলাকা একসঙ্গে ক্যাপচার করতে পারে।
টেলিফটো ক্যামেরা: দূরের কোনো বস্তু বা দৃশ্য খুব কাছ থেকে স্পষ্ট দেখার জন্য টেলিফটো ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়। জুম করার পরও এই ক্যামেরা ছবির মান নষ্ট হতে দেয় না, যা মেন ক্যামেরায় সম্ভব হয় না।

ম্যাক্রো ক্যামেরা: খুব কাছ থেকে ছোট কোনো বস্তুর নিখুঁত ও ডিটেইলড ছবি তোলার জন্য এই ক্যামেরা তৈরি করা হয়েছে।
ডেপথ ক্যামেরা ও পোর্ট্রেট ছবির বিশেষত্ব
বর্তমানে প্রায় অধিকাংশ স্মার্টফোনেই ডেপথ সেন্সর বা ডেপথ ক্যামেরা দেওয়া থাকে। এই ক্যামেরার কাজ সরাসরি ছবি তোলা নয়, বরং ছবিতে থাকা কোনো বস্তু কত দূরে বা কাছে রয়েছে তা শনাক্ত করা। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ফোন পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করে এবং মূল সাবজেক্ট বা মানুষের মুখকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
ফোন কেনার আগে যা মাথায় রাখা জরুরি
শুধু বেশি সংখ্যক ক্যামেরা থাকলেই যে ছবির মান ভালো হবে, বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় বিপণন বা মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্যে ফোনে তিন-চারটি ক্যামেরা দেওয়া হলেও তার মধ্যে মাত্র এক বা দুটি উচ্চমানের হয়। বাকি ক্যামেরাগুলোর মান বা মেগাপিক্সেল অনেক কম থাকে এবং সেগুলোর ব্যবহার নামমাত্র হয়ে থাকে। তাই নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় শুধু ক্যামেরার সংখ্যা না দেখে সেন্সরের মান, মেগাপিক্সেল এবং ক্যামেরার সামগ্রিক গুণমান যাচাই করে নেওয়া উচিত।
এজেড




