স্মার্টফোন আমাদের ব্যাংকিং, ব্যক্তিগত চ্যাট, ছবি, লোকেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু না ভেবেই বিভিন্ন অ্যাপকে বিভিন্ন পারমিশন দিয়ে দেওয়ার ফলে ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অনেক সময় ভুয়া বা সাধারণ গেমিং অ্যাপ এই পারমিশনের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করে দিতে পারে। তাই স্মার্টফোনে ৫টি সংবেদনশীল পারমিশন অপ্রয়োজনীয়ভাবে চালু রয়েছে কি না তা দেখে নেওয়া জরুরি।
কোনো সন্দেহজনক অ্যাপকে এসএমএস পড়ার অনুমতি দিলে সেটি ব্যাংকের ওটিপি, লেনদেনের মেসেজ এবং লগ-ইন কোড পর্যন্ত পড়তে পারে, যার সুযোগ নিয়ে সাইবার প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নিতে পারে। তাই যেসব অ্যাপের এসএমএস পড়ার প্রয়োজন নেই, অবিলম্বে সেই পারমিশন বন্ধ করা দরকার।
এছাড়া মাইক্রোফোন ও ক্যামেরার পারমিশন কেবল ভিডিও কল বা ক্যামেরা অ্যাপের জন্যই প্রয়োজন। কোনো গেম, টর্চ বা ক্যালকুলেটর অ্যাপ এই অনুমতি চাইলে সতর্ক হতে হবে, কারণ এগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে কথা রেকর্ড করতে বা ক্যামেরার অপব্যবহার করতে পারে।
কোনো অ্যাপকে সবসময় লোকেশন অ্যাক্সেস দিলে সেটি সব সময় অবস্থান নজরে রাখতে পারে এবং সেই তথ্য বিজ্ঞাপনদাতা বা প্রতারকদের কাছে পৌঁছাতে পারে, তাই লোকেশন পারমিশন সবসময় অ্যাপ ব্যবহারের সময় সীমিত রাখা উচিত। অন্যদিকে, স্টোরেজ অ্যাক্সেস পেলে অ্যাপগুলো ফোনে থাকা ছবি, ভিডিও ও নথিতে প্রবেশ করতে পারে, যা নিরাপদ না হলে তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা বাড়ায়।
পাশাপাশি অ্যাক্সেসিবিলিটি পারমিশনের অপব্যবহারে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক পিন বা ব্যক্তিগত চ্যাট পড়ে ফেলা সম্ভব এবং অজানা অ্যাপ ইনস্টল করার সুবিধা চালু রাখলে ভাইরাস বা স্পাইওয়্যারের ঝুঁকি বাড়ে।
আরও পড়ুন: ব্লুটুথ বাগিং স্ক্যাম: ২৪ ঘণ্টা ব্লুটুথ অন রাখলেই বিপদ!
সুরক্ষিত থাকতে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও লোকেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমিশন কেবল অ্যাপ ব্যবহারের সময়ই সেট করতে হবে। ক্যালকুলেটর বা গেমিং অ্যাপকে কখনোই কন্টাক্ট, এসএমএস বা কল লগের অনুমতি দেওয়া যাবে না। এছাড়া বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত, যা ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিং নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখবে।
এজেড



