বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট লক হয় কেন? জানুন প্রতিকার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম

শেয়ার করুন:

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট লক হয় কেন? জানুন প্রতিকার
কেন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট লক বা 'আন্ডার রিভিউ'-তে চলে যায়? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

হঠাৎ করেই আপনার প্রয়োজনীয় হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) অ্যাকাউন্টটি লক বা 'রিভিউ'-এর আওতায় চলে যেতে পারে। আনঅফিশিয়াল বা থার্ড-পার্টি অ্যাপের ব্যবহার, স্প্যাম মেসেজ পাঠানো বা বারবার রিপোর্ট হওয়ার মতো একাধিক কারণে এমনটি ঘটতে পারে। চলুন জেনে নিই, ঠিক কী কী কারণে অ্যাকাউন্ট লক হয়, কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন এবং অ্যাকাউন্ট লক হয়ে গেলে আপনার করণীয় কী।

সম্প্রতি কয়েক ঘণ্টার জন্য বিশ্বের বহু হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী আচমকাই নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারেননি। স্ক্রিনে একটি বার্তা দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল যে পরিষেবার শর্তাবলি বা 'টার্মস অব সার্ভিস' অনুযায়ী তাদের অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপ যাচাই করা হচ্ছে এবং ফলাফল জানতে সাধারণত ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।

হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান 'মেটা' (Meta) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি মূলত একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়েছিল, যা ইতিমধ্যেই সমাধান করা হয়েছে। মেটার এক মুখপাত্র জানান, অপব্যবহার রোধে তারা প্রতিনিয়ত নজরদারি চালান। তবে কখনো ভুলবশত এমনটি হলে তা দ্রুত সমাধান করে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে আনা হয়। প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারীর ওপর হোয়াটসঅ্যাপের এই স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা কাজ করে।

যেসব কারণে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট 'আন্ডার রিভিউ'-তে যায়

সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপ দুই ধরনের ব্যবস্থা নেয়—একটি হলো অস্থায়ী বা সাময়িক সাসপেনশন (যেখানে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেখা যায়), অন্যটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা ব্যান, যার ফলে সেই ফোন নম্বর দিয়ে আর কখনো হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা যায় না। যেসব কারণে অ্যাকাউন্ট এমন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে:

আনঅফিশিয়াল অ্যাপের ব্যবহার: জিবি হোয়াটসঅ্যাপ (GB WhatsApp), হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস বা ইয়ো-হোয়াটসঅ্যাপের মতো থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্ট সহজেই চিহ্নিত হয়। এগুলো মেটা অনুমোদিত নয় বলে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হতে পারে।

whatsapp-account-banned-review-screen-1024x576

একসঙ্গে প্রচুর বার্তা বা স্প্যাম পাঠানো: অল্প সময়ে অনেক অচেনা নম্বরে একই ধরনের বার্তা পাঠালে হোয়াটসঅ্যাপ সেটিকে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করে।

বারবার রিপোর্ট বা ব্লক হওয়া: অনেক ব্যবহারকারী যদি অল্প সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো নম্বরকে রিপোর্ট বা ব্লক করেন, তবে হোয়াটসঅ্যাপ সেটিকে সন্দেহজনক আচরণ হিসেবে ধরে।

আপত্তিকর আধেয় (কনটেন্ট) শেয়ার করা: অবৈধ তথ্য, ঘৃণামূলক বক্তব্য, ভুয়া খবর, হুমকি বা অশালীন ছবি-ভিডিও শেয়ার করলে দ্রুত অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বট বা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের ব্যবহার: মানুষের স্বাভাবিক ব্যবহারের সঙ্গে না মেলা কার্যকলাপ, যেমন বটের মতো অতি দ্রুত বার্তা পাঠানো বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহের (ডেটা স্ক্র্যাপিং) টুল ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্ট ব্যান হতে পারে।

ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

সব সময় গুগল প্লে স্টোর, অ্যাপল অ্যাপ স্টোর বা হোয়াটসঅ্যাপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে মূল অ্যাপটি নামিয়ে ব্যবহার করুন। অল্প সময়ে অনেক অচেনা নম্বরে একই বার্তা পাঠানো থেকে বিরত থাকুন। ব্যবসার প্রয়োজনে প্রচুর মেসেজ পাঠাতে হলে অনুমোদিত 'হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস এপিআই' ব্যবহার করুন। স্প্যাম বা ভুয়া খবর ফরোয়ার্ড করবেন না। হঠাৎ করে ব্যবহারের ধরনে বড় কোনো পরিবর্তন (যেমন আচমকা অত্যধিক মেসেজ পাঠানো) আনবেন না, কারণ এতে সন্দেহ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার বিরক্তিকর মেসেজ থেকে মুক্তি দেবে

অ্যাকাউন্ট রিভিউয়ে চলে গেলে করণীয়

যদি আপনার অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে রিভিউয়ের আওতায় চলে আসে, তবে অ্যাপের ভেতরেই 'রিভিউ রিকোয়েস্ট' বা যাচাইয়ের অনুরোধ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। সেখানে সঠিক ও স্পষ্টভাবে নিজের ব্যবহারের তথ্য জানালে দ্রুত সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অনেক সময় ব্যবহারকারীর ভুল নয়, বরং প্রযুক্তির ত্রুটির কারণেও এমন হয়; সেক্ষেত্রে যাচাই শেষে মেটা নিজেই অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করে দেয়। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে সঠিক নিয়ম মেনে অ্যাপ ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর