হোয়াটসঅ্যাপে কেউ আপনাকে ব্লক করেছে কিনা, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল থাকে। এতদিন পর্যন্ত প্রোফাইল ছবি দেখা না যাওয়া, লাস্ট সিন বা অনলাইন স্ট্যাটাস না দেখা, নতুন মেসেজে শুধু একটি টিক থাকা কিংবা ভয়েস কল না যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখে অনেকেই আন্দাজ করতেন। কিন্তু এগুলোর কোনওটিই ব্লক হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ নয়। কারণ প্রাইভেসি সেটিংস বদল, ফোন পরিবর্তন বা ইন্টারনেট সমস্যার কারণেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপশন ভেরিফিকেশন ফিচার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এই ফিচারের মাধ্যমে ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিটি ব্যক্তিগত চ্যাটে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন থাকে। অর্থাৎ বার্তা শুধু প্রেরক ও প্রাপকই পড়তে পারেন। এই এনক্রিপশন যাচাই করার জন্যই অ্যাপে এনক্রিপশন বা ভেরিফাই এনক্রিপশন অপশন রয়েছে। এটি ব্যবহার করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে চ্যাট খুলে তার প্রোফাইলে ট্যাপ করতে হবে। এরপর এনক্রিপশন অপশনে গেলে একটি কিউআর কোড ও নিরাপত্তা নম্বর দেখা যাবে। সেখান থেকে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

যদি ভেরিফিকেশন সফল হয়, তা হলে ধরে নেওয়া যায় যে চ্যাটের নিরাপত্তা ঠিক রয়েছে এবং ওই ব্যক্তি আপনাকে ব্লক করেননি। তবে যদি অন্য কোনও বিকল্প পদ্ধতিতে যাচাই করার বার্তা আসে, অনেকের মতে সেখানে ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এই পদ্ধতি কি একশ শতাংশ নিশ্চিত? না। এই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। হোয়াটসঅ্যাপ নিজে কখনও এমন কোনও ফিচার দেয়নি, যা সরাসরি জানিয়ে দেয় যে আপনাকে কেউ ব্লক করেছেন। এনক্রিপশন ভেরিফিকেশন ফিচার মূলত নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য তৈরি হয়েছে, ব্লক স্ট্যাটাস দেখানোর জন্য নয়।
আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত মুহূর্ত সুরক্ষিত রাখতে স্মার্টফোনের ৭টি জরুরি সেটিংস
তাই শুধু একটি লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। প্রোফাইল ছবি, লাস্ট সিন, মেসেজে সিঙ্গেল টিক, কল না যাওয়া এবং এনক্রিপশন ভেরিফিকেশন,সবগুলো একসঙ্গে বিচার করলেই তুলনামূলক ভাবে সঠিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, অপর প্রান্তের ব্যক্তিকে কোনও মেসেজ পাঠানো বা ফোন করার প্রয়োজন হয় না। ফলে তাঁকে না জানিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া সম্ভব বলে অনেকের দাবি। তবে এটিকে চূড়ান্ত বা সরকারি ভাবে নিশ্চিত ব্লক-চেক পদ্ধতি হিসেবে ধরা উচিত নয়।
এজেড




