এক দশক আগেও বাংলাদেশের খুচরা বাণিজ্যে ই-কমার্স ছিল একটি সীমিত পরিসরের ধারণা। আজ এটি ধীরে ধীরে দেশের খুচরা বাণিজ্য অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন রাতারাতি ঘটেনি। এর পেছনে রয়েছে লজিস্টিকস, গ্রাহক সুরক্ষা, বিক্রেতা সক্ষমতা উন্নয়ন, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং প্রযুক্তিনির্ভর নানা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
বাংলাদেশের বৃহত্তম ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস হিসেবে দারাজ এই পরিবর্তনের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের ভোক্তাদের মধ্যে অনলাইন কেনাকাটার প্রতি আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের খুচরা বাণিজ্যের প্রায় ৩ শতাংশ আসে ই-কমার্স থেকে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলারে, আর বছরে ১২ শতাংশের বেশি হারে বেড়ে ২০২৯ সাল নাগাদ তা ১,২৪৪ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনলাইন বাণিজ্যের মূল ভিত্তি হলো আস্থা। আর সেই আস্থা তৈরির জন্য গ্রাহক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই দারাজ মার্কেটপ্লেসের নির্বাচিত পণ্যের জন্য ১৪ দিনের রিটার্ন সুবিধা চালু করেছে, যা গ্রাহকদের জন্য একটি বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পণ্যের সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা। দারাজমলের মাধ্যমে গ্রাহকরা যাচাইকৃত ব্র্যান্ড ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য কেনার সুযোগ পান, যা গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত নিশ্চয়তা তৈরি করে।
কেবল আস্থা দিয়েই ই-কমার্সের বিকাশ সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী লজিস্টিকস ব্যবস্থা। বর্তমানে দারাজ দেশের ৬৪টি জেলায় পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিং, কালেকশন পয়েন্ট, আধুনিক পণ্য ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত ডেলিভারি মডেলের মতো উদ্যোগগুলো অনলাইন কেনাকাটাকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের উন্মাদনায় দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ৫০ লাখেরও বেশি
ই-কমার্স ইকোসিস্টেমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিক্রেতারা। ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। দারাজ ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে বিক্রেতাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে গ্রাহকদের কেনাকাটার অভ্যাসও। ১১.১১-এর মতো বড় ক্যাম্পেইন বা দারাজ চয়েসের আওতায় এভরিডে লো প্রাইসের মতো উদ্যোগগুলো ই-কমার্সকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলছে।
দারাজের অবদান শুধু বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দারাজ ফিউচার লিডারস প্রোগ্রাম দেশের তরুণদের ডিজিটাল ব্যবসায় নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন আর কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা নিশ্চিতে দারাজের নিবেদিত উদ্যোগ ডিউমেন গড়ে তুলছে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এক কর্মপরিবেশ।
আগামী দশকের প্রতিযোগিতা শুধু কে সবচেয়ে বেশি পণ্য বিক্রি করবে, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং নির্ভর করবে কে সবচেয়ে শক্তিশালী আস্থার ভিত্তি, সেবার মান, বিক্রেতা সক্ষমতা এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে তার ওপর। এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি, দায়িত্বশীলতা এবং ধৈর্যের সঙ্গে সেই ভিত্তির ওপর ভবিষ্যতের ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এজেড




