মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ঢাকা

আলিবাবার প্রভাবে টালমাটাল দারাজ

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

Daraz

​সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে চীনের আলিবাবা গ্রুপের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘দারাজ বাংলাদেশ’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর চাউর হয়েছে। যারা নিয়মিত এই প্ল্যাটফর্মটিতে কেনাকাটা করছেন, তাদের অনেকেই এই খবরে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যদিও কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেই এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপের বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পরিচালিত দারাজের কার্যক্রমে ব্যয় সংকোচন, কর্মী ছাঁটাই এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


জানা গেছে, আলিবাবা বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বিটুবি) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এর ফলে খুচরা ই-কমার্স খাতে নতুন বিনিয়োগ সীমিত করার নীতি অনুসরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি, এর প্রভাব দারাজের বিভিন্ন দেশীয় কার্যক্রমেও পড়তে শুরু করেছে। 

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দারাজ বাংলাদেশকে এখন নিজেদের আয় থেকেই পরিচালন ব্যয় মেটানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ব্রেক-ইভেনে পৌঁছাতে না পারলে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকি পাওয়া কঠিন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মী ছাঁটাই চলছে। 

​বিষয়টি দারাজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা গণমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাঠিয়েছে।

​দারাজের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘দারাজ বাংলাদেশের বাজারে কার্যক্রম পরিচালনায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বাংলাদেশ দারাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার এবং দারাজ বাংলাদেশ ছাড়ছে—এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।’


বিজ্ঞাপন


​বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘দারাজ স্বাভাবিকভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্স খাতের উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দারাজ নিয়মিতভাবে তার সাংগঠনিক কাঠামো ও সম্পদের ব্যবহার পর্যালোচনা করে থাকে, যাতে পরিবর্তিত ব্যবসায়িক চাহিদা ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা যায়।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আলিবাবা দারাজ গ্রুপ অধিগ্রহণ করে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে দারাজের কার্যক্রম রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে লাভজনক অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এজেড/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর