দেশের তরুণদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সাইবার বিশেষজ্ঞ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা, সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অলিম্পিয়াডে নির্বাচিত বিজয়ীরা আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আয়োজকরা জানান, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের আওতাধীন ‘স্কুল অব ফিউচার’-এ ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ, সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৪ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী অলিম্পিয়াডে নিবন্ধন করেন। গত ১৬ মে দেশের ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ৫১ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হন।
জাতীয় প্রতিযোগিতার আগে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ৯ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত চার দিনব্যাপী আবাসিক মেন্টরিং বুটক্যাম্প আয়োজন করা হয়। এতে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী প্রস্তুতি দেওয়া হয়।
বুটক্যাম্পে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বিডিজি ই-গভ সার্টের বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির পরিচালক অধ্যাপক ড. বি. এম. মইনুল হোসেন এবং বুয়েটের অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. আলিম আল ইসলাম বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন।
বিজ্ঞাপন
গত ১২ জুন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সেরা প্রতিযোগীদের বাছাই করা হয়, যারা আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আগ্রহী করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তাদের আশা, অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে।
এমআর/ক.ম




