দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সমসাময়িক ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের (অপতথ্য) বিস্তার। দেশের প্রথম সারির ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’ তাদের সর্বশেষ সাপ্তাহিক ফ্যাক্টলেটারে (৩১ মে থেকে ০৬ জুন) গত সপ্তাহের আলোচিত কিছু অপতথ্য এবং মে মাসের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে তারা রেকর্ড ৩৮৩টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে।
রিউমর স্ক্যানারের সাপ্তাহিক প্রতিবেদন থেকে গত সপ্তাহের আলোচিত তিনটি প্রধান বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো-
বিজ্ঞাপন
১. মে মাসে ৩৮৩ ভুল তথ্য শনাক্ত: শীর্ষে রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক অপতথ্য
রিউমর স্ক্যানারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশজুড়ে মোট ৩৮৩টি ভুল তথ্য ও প্রোপাগান্ডা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৬১ শতাংশই ছিল রাজনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে গত মাসে ৩৮টি সংবেদনশীল সাম্প্রদায়িক অপতথ্য ছড়ানোর প্রমাণও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২. ট্রাফিক জরিমানার ফাঁদে ফিশিং প্রতারণা: ঝুঁকিতে নাগরিকেরা
সম্প্রতি দেশে ‘এআই ট্রাফিক মামলা’ চালুর পর থেকে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধী চক্র। চক্রটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নাম ব্যবহার করে নাগরিকদের মোবাইলে ভুয়া জরিমানার খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠাচ্ছে। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এ ধরনের প্রতারণায় ব্যবহৃত ২৯টি বিদেশি মোবাইল নম্বর এবং ২৫টি ভুয়া ও নকল ওয়েবসাইটের সন্ধান মিলেছে। এই ভুয়া সাইটগুলোর মাধ্যমে মূলত জরিমানা পরিশোধের অজুহাতে নাগরিকদের ব্যাংক কার্ড ও স্পর্শকাতর তথ্য চুরি (ফিশিং) করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
৩. তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু ঘিরে ছড়াচ্ছে এআই ও ভুয়া কনটেন্ট
গত ১ জুন রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। এই নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ে। রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, এসব বিভ্রান্তিকর কনটেন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার, পুরোনো ভিডিওকে বর্তমানের দাবি করা এবং ভুয়া বক্তব্য জুড়ে দিয়ে নাগরিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা দেখা গেছে।
রিউমর স্ক্যানারের পরামর্শ
যেকোনো সংবেদনশীল রাজনৈতিক খবর, মৃত্যুর গুজব কিংবা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সরকারি এসএমএস পাওয়ার পর তা বিশ্বাস করার আগে মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে নিশ্চিত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।




