গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে ঘরকে স্বস্তিদায়ক ও শীতল রাখতে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি এখন আমাদের অন্যতম প্রধান ভরসা। তবে এসি ব্যবহার করলেও অনেকেই রিমোটের সব বোতাম বা ফিচারের সঠিক কাজ সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। এসির রিমোটে থাকা এমন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ ফিচার হলো ‘সুইং মোড'। উইন্ডো কিংবা স্প্লিট— উভয় ধরনের এসিতেই এই ফিচারটি থাকে, যা ঘরের কুলিং বা ঠান্ডা করার প্রক্রিয়াকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে।
এসির সুইং মোডের প্রধান কাজ হলো ঘরের ভেতরে ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ বা ডিরেকশন নিয়ন্ত্রণ করা। এই মোডটি চালু করলে এসির সামনের সুইং ফ্ল্যাপ বা ব্লেডটি অনবরত ওপর-নিচে বা ডানে-বামে ওঠানামা করতে থাকে। এর ফলে এসির ঠান্ডা বাতাস ঘরের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট কোণায় আটকে না থেকে পুরো ঘরে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে দিনের বেলা ঘরে যখন একাধিক মানুষ থাকে, ঘরের আকার বড় হয় কিংবা এসি চালু করার পর দ্রুত পুরো ঘর ঠান্ডা করার প্রয়োজন পড়ে, তখন এই সুইং মোড অন করা অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া ফ্ল্যাপটি অনবরত নড়াচড়া করার কারণে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি কারও শরীরে এসে লাগে না, যা দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকার অস্বস্তি কমায়।
আরও পড়ুন: ইনভার্টার নাকি সাধারণ এসি, কোনটা কেনা বুদ্ধিমানের কাজ?
সুইং মোড ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল বাঁচে কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছুটা ভিন্ন মত রয়েছে। একদল বিশেষজ্ঞের মতে, সুইং মোড অন থাকলে ঠান্ডা বাতাস দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘর জলদি কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রায় পৌঁছাতে পারে। ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে গেলে এসির কম্প্রেসর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ বা ধীরগতির হয়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ভিন্ন আরেকটি মত হলো, এসির সুইং ফ্ল্যাপ বা ব্লেডটিকে অনবরত ঘোরানোর জন্য ভেতরে একটি ছোট মোটর কাজ করে, যা চালাতে বাড়তি বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যদিও এই মোটরের বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ খুবই সামান্য। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, দীর্ঘ সময় ধরে টানা সুইং মোড ব্যবহার করলে এই ছোট মোটরটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং এক সময় তা থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দের সৃষ্টি হতে পারে, যা রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর প্রয়োজন বুঝে সুইং মোড বন্ধ করে দেওয়া বা ফ্ল্যাপটিকে একটি নির্দিষ্ট কোণে স্থির করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এজেড




