মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার দায়ে মামলার মুখে চ্যাটজিপিটির ওপেনএআই

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ০৬:৫২ এএম

শেয়ার করুন:

শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার দায়ে মামলার মুখে চ্যাটজিপিটির ওপেনএআই
শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে মামলার মুখে ওপেনএআই, প্রথম রাষ্ট্র ফ্লোরিডা

শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকির অভিযোগ এনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। 

চ্যাটজিপিটি প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়। একই সঙ্গে চ্যাটজিপিটি স্কুল শুটারদের (শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলাকারী) তথ্য সরবরাহ করা, আত্মহননের পথ দেখানো এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের আসক্ত করার মাধ্যমে শিশুদের ক্ষতি করছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।


বিজ্ঞাপন


ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে কোনো মার্কিন অঙ্গরাজ্যের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার সোমবার অঙ্গরাজ্যের আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। 

মামলায় গত বছর ফ্লোরিডার টালাহাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি গোলাগুলির ঘটনা এবং অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের বেশ কিছু সহিংসতার উদাহরণ টানা হয়েছে, যেখানে হামলাকারীরা সহিংসতা চালানোর আগে চ্যাটজিপিটি থেকে তথ্য পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভুয়া এআই’র ছদ্মবেশে ৯২ হাজার সাইবার হামলা শনাক্ত করেছে ক্যাসপারস্কি

এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল উথমিয়ার বলেন, চ্যাটজিপিটির যেসব ফিচার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক, সেগুলো চালুর পেছনে স্যাম অল্টম্যানের ব্যক্তিগত ভূমিকা ‘সবচেয়ে কেন্দ্রীয়’ ছিল। এই কারণে এই মামলায় অল্টম্যানকে ব্যক্তিগতভাবেও আসামি করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


উথমিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অভিভাবকরা প্রতারিত হচ্ছেন এবং এর জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। এই মামলার মাধ্যমে শত কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবির পাশাপাশি তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটির কার্যপদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে ওপেনএআই-এর একজন মুখপাত্রের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে ওপেনএআই জানিয়েছিল, তারা তাদের এআই মডেলগুলোকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেয় যাতে তা সহিংসতাকে উস্কে দেয় এমন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এমনকি চ্যাট লগে বড় কোনো ক্ষতির সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি দেখা দিলে তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করে এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিষয়টি মূল্যায়ন করে।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রসিকিউটররা ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির ওই সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর চ্যাট লগ পর্যালোচনা করার পর চ্যাটজিপিটির ভূমিকা নিয়ে একটি অপরাধ তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির ওই হামলায় নিহত এক ব্যক্তির পরিবারও ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলা করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে চ্যাটজিপিটি হামলাকারীকে আক্রমণের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করেছিল।

বর্তমানে এআই কোম্পানিগুলো বিশ্বজুড়ে মামলার এক ক্রমবর্ধমান তরঙ্গের মুখোমুখি হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের চ্যাটবটের সঙ্গে এমন সব কথপোকথন যা আত্মক্ষতি, মানসিক অসুস্থতা এবং সহিংসতায় প্ররোচিত করে, তা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে এসব মামলা করা হচ্ছে। গত এপ্রিলেও কানাডার এক প্রাণঘাতী গণ-গোলাগুলির ঘটনায় নিহতদের পরিবার ওপেনএআই এবং অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল, যেখানে দাবি করা হয় যে চ্যাটজিপিটিতে ওই হামলার পরিকল্পনা চলার বিষয়টি কোম্পানি আগে থেকেই জানত, কিন্তু পুলিশকে সতর্ক করেনি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর