বিশ বছর পূর্তির বিশেষ আয়োজন হিসেবে নতুন ‘আইফোন ২০’ বাজারে আনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন প্রজন্মের এই ডিভাইসে বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর চারপাশ বাঁকানো বা ‘কোয়াড-কার্ভড’ ডিসপ্লে। এত দিন অ্যানড্রয়েড ফোনে কার্ভড ডিসপ্লে দেখা গেলেও অ্যাপলের এই নতুন প্রযুক্তি পুরো স্মার্টফোন দুনিয়াকেই বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই কার্ভড ডিসপ্লের পাশাপাশি ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত মানের ওলেড প্যানেল। আলো প্রতিফলন রোধ করার জন্য আইফোনে যে অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিং কোটিং ব্যবহার করা হয়, এই মডেলে থাকছে সেটির আরও আপগ্রেডেড সংস্করণ। এছাড়া স্ক্রিনের নিচে লুকানো ‘আন্ডার ডিসপ্লে ফেস আইডি’র সুবিধাও যুক্ত করেছে অ্যাপল, যা ব্যবহারকারীদের দেবে এক সম্পূর্ণ ফুল-স্ক্রিন অভিজ্ঞতা।
বিজ্ঞাপন
বাজার কাঁপাতে চলা আইফোন ২০ মডেলে প্রসেসর হিসেবে থাকছে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এ২১ বায়োনিক চিপ’। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর সুত্রে জানা গেছে, এবার ক্যামেরার ডিজাইনেও বড় পরিবর্তন আনছে অ্যাপল। পেছনের ক্যামেরার লেন্সগুলো এবার লম্বালম্বি না থেকে আড়াআড়ি বা অনুভূমিক (হরাইজন্টাল) অবস্থানে থাকবে, যা ফোনটিকে দেবে একদম নতুন একটি লুক।

বর্তমানে চীন সহ বিভিন্ন দেশের স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো ব্যাটারির সক্ষমতা বাড়াতে ‘সিলিকন কার্বন ব্যাটারি’ ব্যবহার করছে। যার ফলে ফোনে ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের (এমএএইচ) মতো বিশাল ব্যাটারি দেখা যাচ্ছে। এবার অ্যাপলও আইফোন ২০-তে সিলিকন কার্বন ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করতে যাচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, চীনা ব্র্যান্ডগুলোর মতো অত বড় না করে অ্যাপল এতে ৬,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি রাখতে পারে। এই উন্নত ব্যাটারি ব্যাকআপের কারণে আইফোনের বিক্রি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংকে বেশ বড় চাপে ফেলবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ফোল্ডিং ফোনের বাজারে চমক দেখাবে অপোর এই ফোন
অন্য দিকে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের স্মার্টফোন বাজারে বড় ঝড় তুলতে বিশাল লগ্নির ঘোষণা দিয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ড ‘লাভা’। তারা প্রায় ১,১০০ কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। শুধু তা-ই নয়, লাভা খুব দ্রুত নিজেদের কারখানায় স্মার্টফোনের ডিসপ্লে, পিসিবি বোর্ড এবং ক্যামেরা মডিউল তৈরি শুরু করবে। সাধারণত ভারতের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল থাকে। লাভার এই পদক্ষেপ সফল হলে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে স্মার্টফোন তৈরির ক্ষেত্রে এই অঞ্চল অনেকটা এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
এজেড




