অ্যাপেলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, নতুন আইফোন ১৮ সিরিজ়ের স্মার্টফোনগুলো কবে বাজারে আসবে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এই নিয়ে নানা জল্পনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ দাবি করছেন চলতি বছর কোনো নতুন মডেল আসবেই না, আবার কেউ বলছেন খুব শিগগিরই বাজারে দেখা মিলবে নতুন আইফোনের। তবে আসল সত্য হলো, অ্যাপেল এবার তাদের প্রথাগত লঞ্চিং কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে।
ফোর্বসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার সব মডেল একসঙ্গে বাজারে না এনে আলাদা আলাদা সময়ে লঞ্চ করার পরিকল্পনা করছে টেক জায়ান্টটি।
বিজ্ঞাপন
ব্যবসায়িক কৌশল ও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে অ্যাপেল তাদের প্রিমিয়াম মডেলগুলোকে আগে বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স মডেল দুটি বাজারে আসতে পারে। এটিই হবে এই সিরিজের প্রথম লঞ্চ।
এরপর ২০২৬ সালের শেষের দিকে, অর্থাৎ নভেম্বর মাস নাগাদ অ্যাপেল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন আল্ট্রা বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে যারা সাধারণ বা বেস মডেলের আইফোন ১৮-এর জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের আরও কিছুটা সময় ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ এই মডেলটি সম্ভাব্য ২০২৭ সালের আগে বাজারে আসছে না।
এতদিন অ্যাপেল তাদের সব মডেল একসঙ্গেই উন্মোচন করত, কিন্তু এবার আলাদা আলাদা সময়ে ফোন বাজারে আনার পেছনে মূল কারণ হলো তাদের বিজনেস ও মার্কেটিং মডেলে বড় পরিবর্তন।

বিজ্ঞাপন
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি মূলত মুনাফা বাড়াতে এবং নতুন আইফোনের চিপ তৈরির জটিলতা সামাল দিতেই প্রিমিয়াম মডেলগুলোকে আগে প্রাধান্য দিচ্ছে। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জোয়ার আসায় উন্নত চিপের চাহিদা বিশ্বজুড়ে আকাশচুম্বী। এনভিডিয়া, কোয়ালকম বা এএমডির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো একই কারখানায় চিপ তৈরি করায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ অনেক বেড়েছে। চিপ যত ছোট ও শক্তিশালী হচ্ছে, তা তৈরি করাও তত কঠিন হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন: ফোল্ডিং ফোনের বাজারে চমক দেখাবে অপোর এই ফোন
নতুন এই কৌশলের পেছনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, মেমোরি চিপ, সিলিকন ওয়েফারসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, অ্যাপেলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের ডিসপ্লে, ব্যাটারি ও হার্ডওয়্যারে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে, সেজন্য তারা কিছুটা বাড়তি সময় নিচ্ছে। এছাড়া তাইওয়ান ও চীনের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তাও চিপ উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে চীনের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমাতে অ্যাপেল ভারতে তাদের সাপ্লাই চেইনের পরিধি বাড়াচ্ছে, যা এই মুহূর্তে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বাড়তি সময় নিচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিটের সর্বশেষ একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, চীনের বাজারে আইফোন ১৭-এর বিক্রি এখনো দারুণ অবস্থানে রয়েছে। অ্যাপেলের সিইও টিম কুক নিজেই জানিয়েছেন যে আইফোন ১৭-এর চাহিদা অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। বাজারে বিদ্যমান মডেলের এমন সাফল্যের মাঝেই নতুন প্রিমিয়াম মডেলগুলো আগে লঞ্চ করে গ্রাহকদের দামি ফোন কেনার প্রতি আকৃষ্ট করতে চাইছে অ্যাপেল। পরিকল্পিতভাবে আলাদা আলাদা সময়ে ফোনগুলো বাজারে এনে প্রতিটি দামি মডেলকে এককভাবে স্পটলাইটে রাখাই এখন অ্যাপেলের মূল লক্ষ্য।
এজেড




