রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

ফ্রিজে গ্যাস লিক হচ্ছে কি না কীভাবে বুঝবেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ১০:৫১ এএম

শেয়ার করুন:

ফ্রিজের গ্যাস লিক হয়েছে কি না কীভাবে বুঝবেন?
ফ্রিজের গ্যাস লিক হয়েছে কি না কীভাবে বুঝবেন

রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজের মূল চালিকাশক্তি হলো এর কুলিং সিস্টেম, যা একটি বিশেষ রাসায়নিক গ্যাসের মাধ্যমে ভেতরের পরিবেশকে ঠান্ডা রাখে। তবে অসাবধানতা কিংবা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অনেক সময় ফ্রিজের গ্যাস পাইপলাইনে লিক বা ছিদ্র দেখা দিতে পারে। ফ্রিজের গ্যাস লিক হওয়া কেবল একটি যান্ত্রিক ত্রুটিই নয়, এটি একই সঙ্গে খাবার নষ্ট হওয়া এবং স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণও হতে পারে। 

বিশেষ করে সামনে কোরবানির ঈদের মতো বড় উৎসবের সময়ে ফ্রিজের গ্যাস লিক হলে বিপত্তির শেষ থাকে না। তাই ফ্রিজের গ্যাস লিক হলে ঠিক কী ঘটে, কীভাবে তা বুঝবেন এবং এর সমাধান ও খরচ কেমন হতে পারে, তা আগেভাগেই জেনে রাখা জরুরি।


বিজ্ঞাপন


freze

ফ্রিজের গ্যাস লিক হলে কী হয়?

ফ্রিজের গ্যাস লিক হলে বা বের হয়ে গেলে রেফ্রিজারেটরের ভেতরের কুলিং সাইকেল বা শীতলীকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। এর ফলে ফ্রিজের ভেতরের ঠাণ্ডা বাতাস কমে যেতে থাকে এবং খাবার দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে। যেহেতু গ্যাস কমে যাওয়ার কারণে ফ্রিজ তার কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারে না, তাই ভেতরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে কম্প্রেসরটি অবিরাম বা একটানা চলতে বাধ্য হয়। এতে একদিকে যেমন ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ বা বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়, অন্যদিকে কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে সেটি স্থায়ীভাবে পুড়ে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ফ্রেনন জাতীয় ফ্রিজের গ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা বাতাসে মিশে ঘরের মানুষের শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

hq720


বিজ্ঞাপন


ফ্রিজের গ্যাস লিক হলে কীভাবে বুঝবেন?

আপনার ফ্রিজের গ্যাস লিক হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য বেশ কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। প্রথমত, ফ্রিজ চালু থাকা সত্ত্বেও যদি লক্ষ্য করেন যে এর ভেতরের ঠাণ্ডা ভাব উধাও হয়ে গেছে এবং বরফ গলতে শুরু করেছে, তবে এটি গ্যাস লিকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। দ্বিতীয়ত, ফ্রিজের কম্প্রেসরটি যদি বন্ধ না হয়ে ২৪ ঘণ্টা একটানা চলতে থাকে এবং পেছন থেকে অনবরত জোরে শব্দ হতে থাকে, তবে বুঝবেন ভেতরে পর্যাপ্ত গ্যাস নেই। তৃতীয়ত, ফ্রিজের পেছনের কয়েল বা বডির দুই পাশ যেখানে সাধারণত হাত দিলে গরম অনুভূত হওয়ার কথা, তা যদি একদম ঠাণ্ডা হয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে গ্যাস লিক হয়ে গেছে। অনেক সময় লিক হওয়া অংশ থেকে মৃদু রাসায়নিক গন্ধ বা হিস-হিস শব্দও পাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ফ্রিজে কতদিন পর পর গ্যাস ভরা প্রয়োজন? 

ফ্রিজের গ্যাস লিক হলে কাকে ফোন করবেন?

ফ্রিজে গ্যাস লিকের লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো কিছু মেরামতের চেষ্টা করা একদমই উচিত নয়। আপনার ফ্রিজটি যদি ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি পিরিয়ডের মধ্যে থাকে, তবে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল কাস্টমার কেয়ার বা সার্ভিস সেন্টারে ফোন করে কমপ্লেন রেজিস্টার করুন। আর যদি ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে আপনার এলাকার কোনো বিশ্বস্ত এবং পেশাদার রেফ্রিজারেটর টেকনিশিয়ান অথবা নামী কোনো হোম অ্যাপ্লায়েন্স সার্ভিসিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করুন। ফোন করার সময় ফ্রিজের ব্র্যান্ড ও মডেলটি স্পষ্ট করে জানিয়ে রাখুন, যাতে তারা সঠিক ইকুইপমেন্ট বা প্রয়োজনীয় গ্যাস সিলিন্ডার সাথে নিয়ে আসতে পারেন।

refrigerator-repair

ফ্রিজে গ্যাস লিক হলে কত টাকা লাগে?

ফ্রিজের গ্যাস লিক মেরামতের খরচ মূলত ফ্রিজের ধরন (ডিপ ফ্রিজ, সিঙ্গেল ডোর নাকি ডাবল ডোর), লিকের অবস্থান এবং কোন ধরনের গ্যাস (যেমন: R134a বা R600a) ব্যবহৃত হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত শুধু লিক হওয়া পাইপ মেরামত বা ওয়েল্ডিং করার খরচ ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে লিক মেরামতের পর ফ্রিজে নতুন করে সম্পূর্ণ গ্যাস রিফিল বা গ্যাস চার্জ করতে ব্র্যান্ড ও ফ্রিজের সাইজ ভেদে ২,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এর সাথে টেকনিশিয়ানের ভিজিটিং বা সার্ভিস চার্জ হিসেবে আরও ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা যুক্ত হতে পারে। তাই সামগ্রিকভাবে ফ্রিজের গ্যাস লিকের পূর্ণাঙ্গ সমাধানে সাধারণত ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত বাজেট রাখতে হতে পারে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর