বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ঢাকা

আইফোনের চেয়ে কেন অ্যানড্রয়েড সেরা? জেনে নিন ৭টি অকাট্য কারণ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ১০:২১ এএম

শেয়ার করুন:

আইফোনের চেয়ে কেন অ্যানড্রয়েড সেরা? জেনে নিন ৭টি অকাট্য কারণ
আইফোনের চেয়ে কেন অ্যানড্রয়েড সেরা? জেনে নিন ৭টি অকাট্য কারণ

প্রযুক্তি বাজারে নতুন স্মার্টফোন কেনার কথা উঠলেই সবার আগে আইফোন এবং অ্যানড্রয়েডের তুলনা চলে আসে। অ্যাপলের তৈরি আইফোন নিঃসন্দেহে একটি প্রিমিয়াম এবং স্ট্যাটাস সিম্বল ফোন। তবে তার মানে এই নয় যে এটি সবার জন্য সেরা বা একমাত্র বিকল্প। বরং বাস্তব ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকগুলো বড় কারণে অ্যানড্রয়েড ফোন আইফোনের চেয়ে বেশ এগিয়ে থাকে। বেশি ফিচার, দ্রুতগতির চার্জিং, সাশ্রয়ী দাম এবং কাস্টমাইজেশনের স্বাধীনতার কারণে অ্যানড্রয়েড ফোন এখন আইফোনকে কড়া টক্কর দিচ্ছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই প্রধান ৭টি কারণ, যা আইফোনের চেয়ে অ্যানড্রয়েডকে এগিয়ে রাখে।

১. সাশ্রয়ী দামে সেরা ফ্ল্যাগশিপ


বিজ্ঞাপন


আইফোনের দাম সাধারণ গ্রাহকের বাজেটের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে। ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে অ্যানড্রয়েডে স্যামসাং, নাথিং, রিয়েলমি বা পোকোর মতো ব্র্যান্ডের টপ ক্লাস ফ্ল্যাগশিপ ফোন পাওয়া যায়। অন্যদিকে একই বাজেটে আইফোনের কেবল পুরনো মডেল বা একদম বেসিক ভ্যারিয়েন্টই কেনা সম্ভব। ফলে অ্যানড্রয়েডে কম টাকা খরচ করেই সেরা সব আধুনিক ফিচার উপভোগ করা যায়।

২. কাস্টমাইজেশনের অসীম স্বাধীনতা

আইফোনে ব্যবহারকারীদের জন্য পরিবর্তনের সুযোগ খুবই সীমিত। হোম স্ক্রিন, আইকন, থিম বা নোটিফিকেশন প্যানেল অ্যাপলের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনেই ব্যবহার করতে হয়। অন্যদিকে অ্যানড্রয়েড ফোনে নিজের পছন্দমতো পুরো ইন্টারফেস বদলে ফেলা যায়। থার্ড পার্টি লঞ্চার, কাস্টম আইকন প্যাক কিংবা গেমিং মোড তৈরি করে ফোনটিকে একদম নিজের মতো করে সাজিয়ে নেওয়া সম্ভব।

৩. শক্তিশালী ব্যাটারি ও সুপারফাস্ট চার্জিং


বিজ্ঞাপন


বেশিরভাগ অ্যানড্রয়েড ফোনেই এখন ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা তার চেয়ে বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি দেওয়া হয়, যা আইফোনের তুলনায় অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, অ্যানড্রয়েড ফোনে ৬৫ ওয়াট, ৮০ ওয়াট কিংবা ১২০ ওয়াট পর্যন্ত ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট থাকে। এর ফলে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটে পুরো ফোন চার্জ হয়ে যায়। এই দিক থেকে আইফোনের চার্জিং গতি এখনও অনেক ধীরগতির।

iphone-vs-android-users

৪. আধুনিক ফিচার এবং বৈচিত্র্য

মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা, ফিজিক্যাল ডুয়াল সিম, অলওয়েজ অন ডিসপ্লে কিংবা ১০০ এক্স পর্যন্ত উন্নত জুম ক্যামেরার মতো ফিচারগুলো অ্যানড্রয়েডে খুব সাধারণ বিষয়। এমনকি এখন কম দামের মধ্যেও চমৎকার ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা ফোন বাজারে নিয়ে এসেছে অ্যানড্রয়েড ব্র্যান্ডগুলো। আইফোনে এই সুবিধাগুলোর অনেকগুলোই অনুপস্থিত, আর যেগুলো আছে তার জন্য গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

৫. অ্যাপ ডাউনলোডের ভিন্ন বিকল্প

আইফোনে অ্যাপলের অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোথাও থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো দরকারী অ্যাপ সেখানে না থাকলে সেটি ব্যবহারের সুবিধাও বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু অ্যানড্রয়েড ফোনে গুগল প্লে স্টোরের পাশাপাশি অন্য নিরাপদ উৎস থেকেও অ্যাপ সাইডলোড বা সরাসরি ইনস্টল করা যায়। এতে ব্যবহারকারীরা অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিকল্প পান।

৬. হাতের নাগালে মেরামতের খরচ

আইফোনের যেকোনো পার্টস নষ্ট হলে বা হাত থেকে পড়ে স্ক্রিন ফেটে গেলে তা মেরামত করতে আকাশছোঁয়া খরচ হয়। সাধারণ একটি ডিসপ্লে বদলাতেই ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। সে তুলনায় অ্যানড্রয়েড ফোনের পার্টসের দাম এবং মেরামতের খরচ অনেক কম। পাশাপাশি যেকোনো শহরের নির্ভরযোগ্য সার্ভিস সেন্টারে এটি সহজেই সারিয়ে নেওয়া যায়।

৭. সহজ ফাইল ম্যানেজমেন্ট ও ডেটা ট্রান্সফার

আইফোনের ফাইল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম খুবই জটিল এবং সীমিত। কম্পিউটার বা অন্য ফোনে সহজে ফাইল ট্রান্সফার কিংবা কপি করা যায় না। অন্যদিকে অ্যানড্রয়েড ফোনের ফাইল ম্যানেজারের মাধ্যমে মেমোরি কার্ড, ইন্টারনাল স্টোরেজ কিংবা সরাসরি পেনড্রাইভ যুক্ত করে খুব সহজেই যেকোনো ডেটা আদান-প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: ঈদে ৪০ হাজার টাকার বাজেটে কিনুন বাজারের সেরা প্রিমিয়াম স্মার্টফোন

দীর্ঘদিনের সফটওয়্যার সাপোর্ট, দুর্দান্ত বিল্ড কোয়ালিটি এবং প্রিমিয়াম লুকের জন্য আইফোন অবশ্যই জনপ্রিয়। তবে আপনি যদি আপনার কষ্টের টাকার সঠিক মূল্যায়ন, ব্যবহারের পূর্ণ স্বাধীনতা, দ্রুত চার্জিং এবং নিত্যনতুন সব আধুনিক ফিচার চান, তবে অ্যানড্রয়েড ফোনই আপনার জন্য সেরা এবং বুদ্ধিমানের মতো বিকল্প হতে পারে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর