রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

এআই’র দাপটে যেসব পেশা হারিয়ে যাবে!

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

এআই’র দাপটে যেসব পেশা হারিয়ে যাবে!
এআই’র দাপটে যেসব পেশা হারিয়ে যাবে

এখন প্রযুক্তির জয়জয়কার সবখানে, আর সেই অগ্রযাত্রার সারথী হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। কিন্তু এই এআই কি শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবিকার ওপর আঘাত হানতে যাচ্ছে? সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা সাধারণ কর্মজীবী থেকে শুরু করে সৃজনশীল খাতের মানুষদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে অনেক প্রচলিত পেশা চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে, যার জায়গা দখল করবে এই প্রযুক্তি।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এআই-এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে রয়েছেন সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। বর্তমানে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করে লেখালেখি থেকে শুরু করে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ অতি দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে সৃজনশীল কাজে মৌলিকত্ব দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। যখন কোনো কাজের নিজস্বতা থাকে না, তখন সেই পেশার গুরুত্বও কমে আসে। এই সর্বগ্রাসী আগ্রাসনে সৃজনশীলতা এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে।


বিজ্ঞাপন


প্রতিবেদনের তথ্য মতে, অফিস ক্লার্ক, রিসেপশনিস্ট, হিসাবরক্ষক, সেলস ও মার্কেটিং এবং সিস্টেম অ্যানালিস্টের মতো পদগুলো আগামী কয়েক দশকের মধ্যে নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। ভয়েস আর্টিস্টদের অবস্থাও বেশ শোচনীয় হতে চলেছে, কারণ কৃত্রিম কণ্ঠস্বর এখন এতটাই উন্নত যে পেশাদার শিল্পীদের প্রয়োজনীয়তা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যারা ক্যারিয়ার শুরু করতে চাচ্ছেন, তাদের এখন মার্কেটিং বা প্রোগ্রামিংয়ের চেয়ে হাতেকলমে করতে হয় এমন কাজের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে।

AI-in-Art

অবশ্য সব পেশাই যে ঝুঁকির মুখে তা কিন্তু নয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, শারীরিক শ্রম বা মানুষের সরাসরি উপস্থিতি প্রয়োজন হয় এমন ক্ষেত্রগুলোতে চাকরির সুযোগ বরং বাড়ছে। নার্সিং, কনস্ট্রাকশন, মাইনিং, লন্ড্রি ওয়ার্কার্স এবং হসপিটালিটি সেক্টরকে ভবিষ্যতের জন্য বেশি সুরক্ষিত মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ যন্ত্র বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সব কাজ সম্ভব হলেও মানুষের স্পর্শ ও সরাসরি শারীরিক পরিশ্রমের বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।

আরও পড়ুন: চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও নোটবুকএলএম—কোনটার কী কাজ?


বিজ্ঞাপন


সব মিলিয়ে এআই-এর এই জয়যাত্রা যেমন কাজের গতি বাড়াচ্ছে, ঠিক তেমনি মানুষের চাকরির সুরক্ষা নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের জন্য বড় পরামর্শ হলো, গতানুগতিক ক্যারিয়ার ভাবনার বাইরে এসে এমন সব দক্ষতায় নিজেকে দক্ষ করা যা কেবল কম্পিউটারের অ্যালগরিদমের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রযুক্তির এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এখন থেকেই নিজেকে বদলানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর