পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষে ভারতে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের সম্পূর্ণ সাপ্লাই চেইন এবং পণ্যকে কার্বন নিরপেক্ষ করার বৈশ্বিক লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ভারতে এই নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে আইফোন নির্মাতা সংস্থাটি। গত বৃহস্পতিবার অ্যাপলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব স্টার্টআপের উন্নয়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বা ক্লিন এনার্জি প্রসারে ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান ক্লিনম্যাক্সের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়িয়েছে অ্যাপল। এই প্রকল্পের আওতায় ভারতে ১৫০ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। অ্যাপলের এই বিনিয়োগের ফলে বছরে প্রায় দেড় লাখ ভারতীয় পরিবারের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বেও ক্লিনম্যাক্সের সহায়তায় অ্যাপল তাদের ভারতীয় অফিস এবং রিটেইল স্টোরগুলোতে ছাদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞাপন

প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে অ্যাপল এবার হাত মিলিয়েছে ডাব্লিউডাব্লিউএফ-ইন্ডিয়ার সঙ্গে। দেশটির গোয়ায় পরিচালিত 'সাহাস জিরো ওয়েস্ট' প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষে এই বিনিয়োগ কাজ করবে। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, সঠিক উপায়ে বাছাই এবং তা পুনরায় ব্যবহারের যোগ্য করে তোলার প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করা হবে। গোয়ার সফল মডেলটি এখন তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরসহ অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও বর্জ্য সংগ্রহকারী কর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন: ২০২৬ সালেই বাজারে আসছে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে অ্যাপল এবার পাশে দাঁড়াচ্ছে নতুন উদ্যোক্তাদের। অ্যাকুমেন নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা প্রাথমিক পর্যায়ের ছয়টি পরিবেশবান্ধব স্টার্টআপকে বিশেষ আর্থিক অনুদান, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এই স্টার্টআপগুলো মূলত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি এবং সার্কুলার ইকোনমি নিয়ে কাজ করছে। অ্যাপলের পরিবেশ ও সাপ্লাই চেইন ইনোভেশন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা চ্যান্ডলার জানান, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অর্থনীতিতে অবদান রাখা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন
এজেড




