শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ঢাকা

ফোনের ফ্লাইট মোডের সঠিক ব্যবহার জানেন না অনেকেই

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ১০:৪২ এএম

শেয়ার করুন:

ফোনের ফ্লাইট মোডের সঠিক ব্যবহার জানেন না অনেকেই
ফোনের ফ্লাইট মোডের সঠিক ব্যবহার জানেন না অনেকেই

স্মার্টফোনের অসংখ্য ফিচারের মধ্যে অন্যতম হলো ‘এয়ারপ্লেন মোড’ বা ‘ফ্লাইট মোড’। আকাশপথে ভ্রমণের সময় এই মোড চালু করা বাধ্যতামূলক হলেও এর প্রকৃত গুরুত্ব এবং সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা অস্পষ্ট। মূলত সিগন্যাল ইন্টারফেরেন্স কমানো এবং বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ফিচারটি ডিজাইন করা হয়েছে।

কেন এয়ারপ্লেন মোড বাধ্যতামূলক


বিজ্ঞাপন


বিমানে উড্ডয়নের আগে যখন টেক-অফের ঘোষণা দেওয়া হয়, তখন ফোনটি এয়ারপ্লেন মোডে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রধান কারণ হলো বিমানের সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক সিস্টেম। বিমানে থাকা নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সূক্ষ্ম রেডিও সিগন্যালের ওপর নির্ভর করে। যদি ফ্লাইটের শত শত যাত্রী তাদের ফোন সাধারণ মোডে রাখেন, তবে প্রতিটি ডিভাইস ক্রমাগত নেটওয়ার্ক সিগন্যাল খোঁজার চেষ্টা করে। এই সম্মিলিত সিগন্যালগুলো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ইন্টারফেরেন্স বা তরঙ্গ বিভ্রাট সৃষ্টি করতে পারে, যা পাইলটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর ঝুঁকি তৈরি করে।

প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ও সিগন্যাল জট

বিমান যখন হাজার হাজার ফুট উচ্চতায় থাকে, তখন আপনার ফোনটি মাটির মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ শক্তিতে সিগন্যাল পাঠাতে থাকে। এটি শুধু যে বিমানের সিস্টেমের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ তা নয়, বরং স্থলভাগের নেটওয়ার্ক সিস্টেমের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে ফোনের সব ওয়্যারলেস সংযোগ (মোবাইল নেটওয়ার্ক, কলিং ও ডেটা) বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ফোনটি আর কোনো টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগের চেষ্টা করে না।

AIR-PLANE-FLIGHT-MODE


বিজ্ঞাপন


আধুনিক বিমানে নিরাপত্তা ও নমনীয়তা

বর্তমান সময়ের আধুনিক বিমানগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী এবং উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন। গবেষণায় দেখা গেছে, আজকের বিমান ব্যবস্থা ছোটখাটো ইন্টারফেরেন্স সামাল দিতে সক্ষম। তবুও এয়ারলাইন্স এবং বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিতে চায় না। একে একটি প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবেই দেখা হয়।

এয়ারপ্লেন মোডে ওয়াই-ফাই ব্যবহার

অনেকে মনে করেন এয়ারপ্লেন মোড মানেই ফোনের সব সুবিধা বন্ধ। কিন্তু সঠিক নিয়ম হলো, এই মোড চালু করার পর আপনি চাইলে আলাদাভাবে ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) এবং ব্লুটুথ (Bluetooth) চালু করতে পারেন। বর্তমানে অনেক এয়ারলাইন্স ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই পরিষেবা প্রদান করে। এই সংযোগটি বিশেষ স্যাটেলাইট সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ করে, যা বিমানের জন্য নিরাপদ। অর্থাৎ, এয়ারপ্লেন মোড চালু রেখেও আপনি ইন্টারনেটে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন: অ্যানড্রয়েড ফোনের পাঁচটি গোপন ফিচার, যা অনেকেরই অজানা

পরিশেষে, ফোনের এয়ারপ্লেন মোড শুধু একটি সাধারণ আনুষ্ঠানিক নিয়ম নয়; এটি নিরাপদ আকাশ ভ্রমণ এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার একটি জরুরি প্রযুক্তিগত ধাপ।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর