বর্তমানে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে ঘরের ছোটখাটো ইলেকট্রনিক খেলনা, সবখানেই চার্জিংয়ের জন্য বহুল ব্যবহৃত নাম হলো USB Type-C। প্রতিদিন এই চার্জার আমরা ব্যবহার করলেও, কখনও কি ভেবে দেখেছেন এর নামের শেষে থাকা ‘C’ অক্ষরটির আসল মানে কী? সম্প্রতি এই প্রযুক্তির আদ্যোপান্ত নিয়ে দারুণ কিছু তথ্য সামনে এসেছে।
নেই কোনো ফুল ফর্ম, তবে আছে বিশেষ কারণ
বিজ্ঞাপন
অনেকে মনে করেন ‘C’ মানে হয়তো বিশেষ কোনো বৈজ্ঞানিক শব্দ। কিন্তু মজার বিষয় হলো, Type-C-র নির্দিষ্ট কোনো ফুল ফর্ম নেই। মূলত চার্জিং প্রযুক্তির বিবর্তন বা জেনারেশন বোঝাতেই এই নামকরণ। এর আগের সংস্করণগুলো ছিল Type-A এবং Type-B। যেহেতু এটি তৃতীয় ও সবচেয়ে আধুনিক সংস্করণ, তাই এর নাম রাখা হয়েছে Type-C। এছাড়া এর কানেক্টরের বিশেষ আকৃতি ইংরেজি ‘C’ অক্ষরের সঙ্গে কিছুটা মিল থাকাটাও এই নামকরণের অন্যতম কারণ।

কেন এটি সবার সেরা?
Type-A বা Type-B ব্যবহারের সময় আমাদের প্রধান সমস্যা ছিল কেবলটি উল্টো না সোজা তা দেখে লাগানো। একটু ভুল হলেই পোর্ট নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকত। Type-C এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিয়েছে। এটি আপনি যে কোনো দিক দিয়েই পোর্টে প্রবেশ করাতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ৩ নাকি ৪ ব্লেডের সিলিং ফ্যানে বেশি বাতাস পাওয়া যায়?
Type-C-র উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো হলো:
রিভার্সিবল ডিজাইন: ওপর-নিচ যে কোনো দিক দিয়ে লাগানো যায়।
দ্রুত চার্জিং: আগের প্রযুক্তির তুলনায় এটি অনেক বেশি বিদ্যুৎ (Power) সরবরাহ করতে পারে।
ডেটা ট্রান্সফার স্পিড: এটি ১০ জিবিপিএস (10Gbps) বা তার চেয়েও বেশি গতিতে ডেটা পাঠাতে সক্ষম।
মাল্টি-পারপাস ব্যবহার: শুধু চার্জিং নয়, টাইপ-সি দিয়ে মনিটর, টিভি বা একাধিক ডিসপ্লেও সংযুক্ত করা সম্ভব।

ভবিষ্যতে কি আসবে Type-D?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে ‘Type-D’ আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে Type-C-কে একটি ইউনিভার্সাল স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক করেছে। তবে এর আকৃতি একই রেখে ভেতরকার গতি ও ফিচারে নিয়মিত আপডেট আনা হচ্ছে। ফলে এটি দীর্ঘ সময় বাজার ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে চার্জিং পোর্ট পুরোপুরি উঠে গিয়ে সম্পূর্ণ ওয়্যারলেস প্রযুক্তির দিকেই বিশ্ব ঝুঁকতে পারে।
এজেড




