তপ্ত গরমে স্বস্তি পেতে এসি চালানো এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এসির আরামের পাশাপাশি মাসের শেষে বড় অংকের বিদ্যুৎ বিল অনেকের জন্যই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ কিছু কৌশলে এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে আপনি চাইলেই আপনার বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারেন। এমনকি সঠিক তাপমাত্রায় এসি ব্যবহার করলে বছরে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।
ভুল ধারণা ও বাস্তবতা
বিজ্ঞাপন
অনেকেই মনে করেন এসি ১৮ ডিগ্রিতে চালিয়ে দিলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে। আসলে এটি একটি ভুল ধারণা। বাইরের তাপমাত্রা যখন ৪০ ডিগ্রির আশেপাশে, তখন ঘর ঠান্ডা হতে যে সময় লাগে, আপনি থার্মোস্ট্যাট ১৮ বা ২৬ যা-ই সেট করুন না কেন, সময় একই লাগবে। বরং তাপমাত্রা যত কম রাখা হবে, এসির কম্প্রেসর তত বেশি সময় ধরে চলবে এবং বিদ্যুতের খরচ বাড়বে।
সাশ্রয়ী তাপমাত্রা কততে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি ১৮ ডিগ্রি থেকে বাড়িয়ে যদি ২৪ বা ২৬ ডিগ্রিতে চালানো হয়, তবে কম্প্রেসর অনেক কম কাজ করে। তাপমাত্রা একবার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছে গেলে কম্প্রেসর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং শুধু ফ্যান চলতে থাকে। হিসাব অনুযায়ী, এসির তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির বদলে ২৭ ডিগ্রিতে রাখলে বছরে প্রায় ৯৬০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ এবং আনুমানিক ৬,২৪০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব (যদি বছরে ৮ মাস এসি ব্যবহার করা হয়)।

বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ খরচ কমানোর অন্যান্য প্রভাবক
শুধু তাপমাত্রা নয়, এসি কতটুকু বিদ্যুৎ টানবে তা নির্ভর করে আরও কিছু বিষয়ের ওপর:
এসির স্টার রেটিং (Star Rating)।
ঘরের আকার ও ইনসুলেশন (ঘরের জানলা-দরজা ঠিকমতো আটকানো আছে কি না)।
ঘরে কতজন মানুষ অবস্থান করছেন।
বাইরের আবহাওয়া ও এসি ব্যবহারের সময়কাল।
আরও পড়ুন: দিনে কত ঘণ্টা এসি চালানো ভালো?
স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিবেশ
খুব কম তাপমাত্রায় এসি চালিয়ে লেপ বা কম্বল ব্যবহার করা কেবল শক্তির অপচয় নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। বাইরের অতিরিক্ত গরম থেকে এসে হুট করে ভেতরের খুব ঠান্ডা পরিবেশে প্রবেশ করলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই শরীরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে তাপমাত্রা মাঝামাঝি পর্যায়ে (২৪-২৬ ডিগ্রি) রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
এজেড

