বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য রেড অ্যালার্ট: নতুন ভাইরাসের হানা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৪ এএম

শেয়ার করুন:

অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য রেড অ্যালার্ট: নতুন ভাইরাসের হানা
স্মার্টফোন দুনিয়ায় নতুন ত্রাসের নাম ‘NoVoice’। সাধারণ ম্যালওয়্যার ফোন ফরম্যাট বা ফ্যাক্টরি রিসেট করলে মুছে গেলেও, ‘NoVoice’ অত্যন্ত চতুর।

স্মার্টফোন দুনিয়ায় নতুন ত্রাসের নাম ‘NoVoice’। সাধারণ ম্যালওয়্যার ফোন ফরম্যাট বা ফ্যাক্টরি রিসেট করলে মুছে গেলেও, ‘NoVoice’ অত্যন্ত চতুর। এটি ফোনের সিস্টেমের এত গভীরে প্রবেশ করে যে, সাধারণ রিসেটে একে তাড়ানো অসম্ভব। সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা McAfee-র গবেষকরা সম্প্রতি এই ভয়ঙ্কর ম্যালওয়্যারের সন্ধান পেয়েছেন।

২৩ লক্ষ বার ডাউনলোড! আপনার ফোন কি তালিকায়?


বিজ্ঞাপন


গবেষণায় দেখা গেছে, গুগল প্লে-স্টোরে থাকা প্রায় ৫০টিরও বেশি অ্যাপের ভেতরে এই ম্যালওয়্যার লুকিয়ে ছিল। ইতিমধ্যে এই অ্যাপগুলো বিশ্বজুড়ে ২৩ লক্ষবারেরও বেশি ডাউনলোড হয়েছে। মূলত পুরনো ও বাজেট অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোই এই ম্যালওয়্যারের প্রধান লক্ষ্য।

How-to-Check-for-Malware-on-Android-1

ম্যালওয়্যারটি যেভাবে আপনার ফোনে থাবা বসায়:

১. ছদ্মবেশ: এটি সাধারণত সিস্টেম ক্লিনার, ছোট গেম বা ফটো গ্যালারি অ্যাপের ছদ্মবেশে থাকে। শুরুতে এটি কোনো সন্দেহজনক পারমিশন চায় না, তাই ব্যবহারকারীরা নিশ্চিন্তে ডাউনলোড করেন।
২. রুট অ্যাক্সেস: ইনস্টল হওয়ার পর এটি ফোনের পুরনো সিকিউরিটি হোল (Vulnerability) খুঁজে বের করে এবং ফোনের 'রুট অ্যাক্সেস' নিয়ে নেয়।
৩. তথ্য চুরি: রুট অ্যাক্সেস পাওয়ার পর এটি আপনার ব্যাংকিং অ্যাপের ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড চুরি করে, গ্যালারির ছবি ডিলিট করতে পারে এবং আপনার প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোকেও অকেজো করে দেয়।


বিজ্ঞাপন


কেন এটি সাধারণ ম্যালওয়্যারের চেয়ে আলাদা?

অধিকাংশ ভাইরাস ফোন ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ করলে ডিলিট হয়ে যায়। কিন্তু NoVoice নিজেকে ফোনের সিস্টেম পার্টিশনে লুকিয়ে ফেলে। ফলে রিসেট দিলেও এটি ফোনে থেকে যায়। এটি সরাতে হলে ফোনের সম্পূর্ণ ফার্মওয়্যার (Firmware) পুনরায় ইনস্টল বা রি-ফ্ল্যাশ করতে হয়।

images

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন?

যাদের ফোনে মে ২০২১-এর পর কোনো সিকিউরিটি আপডেট আসেনি।

পুরনো মডেলের বাজেট স্মার্টফোন ব্যবহারকারী।

মূলত আফ্রিকা, ভারত, আমেরিকা এবং ইউরোপের ব্যবহারকারীরা এই ম্যালওয়্যারের শিকার হয়েছেন।

সুরক্ষার জন্য কী করবেন?

গুগল ইতিমধ্যে প্লে-স্টোর থেকে চিহ্নিত ৫০টি অ্যাপ সরিয়ে দিয়েছে। তবে আপনার ফোনে আগে থেকে ডাউনলোড করা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন:

আপডেট চেক করুন: আপনার ফোনে লেটেস্ট সিকিউরিটি প্যাচ আছে কি না নিশ্চিত করুন।

অজানা অ্যাপ বর্জন: অপরিচিত বা অকেজো 'সিস্টেম ক্লিনার' জাতীয় অ্যাপ এড়িয়ে চলুন।

shutterstock_2254987807

রি-ফ্ল্যাশ: যদি সন্দেহ হয় ফোনটি আক্রান্ত, তবে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে ফোনের ফার্মওয়্যার নতুন করে ফ্ল্যাশ করিয়ে নিন।

অ্যান্টিভাইরাস: ফোনে একটি বিশ্বস্ত এবং নামী কোম্পানির অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।

সতর্কবার্তা: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরনো স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের এখন বাড়তি সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। নিয়মিত আপডেট না পাওয়া ফোনগুলোই সাইবার অপরাধীদের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে।

এজেড

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর