আজকাল ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার উপরে প্রিমিয়াম স্মার্টফোন কেনা একটি সাধারণ বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে। তবে ফোন কেনার ২-৩ বছর পর যখন সেটি পরিবর্তন করতে যান, তখন পুরনো ফোনটির বাজারমূল্য কত থাকবে এবং সেটি কতদিন স্বাচ্ছন্দ্যে চলবে—তা নিয়ে অনেক ব্যবহারকারীই দ্বিধায় থাকেন। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিসেল ভ্যালু এবং দীর্ঘস্থায়িত্বের দৌড়ে অ্যানড্রয়েডের চেয়ে আইফোন এখনও অনেকটাই এগিয়ে।
রিসেল ভ্যালুতে আইফোনের আধিপত্য
বিজ্ঞাপন
২০২৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি আইফোন ২ বছর ব্যবহারের পরেও তার আদি মূল্যের প্রায় ৬০-৭০% ধরে রাখতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, ৮০ হাজার টাকায় কেনা একটি আইফোন দুই বছর পর অনায়াসেই ৪৮-৫৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। অন্যদিকে, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস সিরিজের মতো প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো সাধারণত ৪৫-৫৫% মূল্য ধরে রাখতে পারে। গুগল পিক্সেলের ক্ষেত্রে এই হার আরও কম, প্রায় ৪০-৫০%। ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং বাজারে উচ্চ চাহিদাই আইফোনকে রিসেল ভ্যালুতে এগিয়ে রাখছে।

দীর্ঘস্থায়িত্ব ও সফটওয়্যার আপডেট
সফটওয়্যার সাপোর্টের ক্ষেত্রে আইফোন দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা দেয়। একটি আইফোন সাধারণত ৫-৭ বছর পর্যন্ত নিয়মিত ওএস (OS) আপডেট এবং সিকিউরিটি প্যাচ পায়, যা ফোনের পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি হেলথ দীর্ঘদিন ভালো রাখে। বিপরীতে, স্যামসাং বা পিক্সেল বর্তমানে ৭ বছর আপডেটের প্রতিশ্রুতি দিলেও অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড ব্র্যান্ড ৩-৪ বছরের বেশি ওএস আপডেট দেয় না। ফলে কয়েক বছর পরেই অ্যানড্রয়েড ফোনের গতি কমতে শুরু করে এবং অনেক অ্যাপ সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ফোনে চার্জ থাকছে না? কোন অ্যাপ ব্যাটারি শেষ করছে জানাবে গুগল
আপনার জন্য কোনটি সঠিক?
আইফোন বেছে নিন: যদি আপনি একই ফোন দীর্ঘ ৫-৬ বছর ব্যবহার করতে চান, বিক্রির সময় ভালো দাম আশা করেন এবং একটি সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন ইউজার ইন্টারফেস পছন্দ করেন।
অ্যানড্রয়েড বেছে নিন: যদি আপনি ফোনের ফিচারে অনেক বেশি কাস্টমাইজেশন, বৈচিত্র্যময় ডিজাইন বা ফোল্ডেবল ফোনের অভিজ্ঞতা নিতে চান এবং রিসেল ভ্যালু নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত না হন।
৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ করে ফোন কেনার সময় শুধু ক্যামেরা বা ডিসপ্লে না দেখে, ফোনটির ভবিষ্যৎ বাজারমূল্য এবং কত বছর সফটওয়্যার আপডেট পাওয়া যাবে তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এজেড

