শিশু ও কিশোরদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নিয়মে আমূল পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের (মাইনর) জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা এক্স-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে অবাধ প্রবেশাধিকার সীমিত করে বয়সভেদে আলাদা আলাদা স্তরের নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MeitY) সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করেছে। এই নতুন নিয়মের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অনলাইনে ক্ষতিকর কন্টেন্ট থেকে তাদের দূরে রাখা।
বিজ্ঞাপন
কী থাকছে নতুন এই প্রস্তাবে?
সরকারি সূত্র এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে-

বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ: শুধুমাত্র অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি নয়, বরং বয়স অনুযায়ী প্যারেন্টাল কন্ট্রোল (অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ) এবং স্ক্রিন টাইম বা ব্যবহারের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ফিচারে সীমাবদ্ধতা: নির্দিষ্ট বয়সের নিচে ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু বিশেষ ফিচার (যেমন—অজানা ব্যক্তির মেসেজ বা নির্দিষ্ট ধরণের ভিডিও) বন্ধ রাখা হতে পারে।
আরও পড়ুন: শিশুর স্মার্টফোন আসক্তির ভয়াবহতা জানুন
বয়স যাচাইয়ের কড়াকড়ি: বর্তমানে অনেক শিশু ভুল জন্মতারিখ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে। এটি রুখতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাইকরণ পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ম কার্যকর করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে একটি স্মার্টফোন পরিবারের সবাই মিলে ব্যবহার করেন, সেখানে নির্দিষ্ট করে একজনের বয়স যাচাই করা কঠিন। এছাড়া ১৬ বা ১৮ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল অ্যাক্সেস সীমিত করার বিতর্ক উসকে দিতে পারে।

এখনই কি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত?
ভারত সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দেশের মডেল পর্যবেক্ষণ করছে এবং সব পক্ষের মতামত নিচ্ছে। এখনও কোনো চূড়ান্ত বয়সসীমা নির্ধারিত হয়নি; আলোচনা চলছে ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে যেকোনো একটিকে ভিত্তি হিসেবে ধরার। শিগগিরই তথ্যপ্রযুক্তি আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে এই নিয়মগুলো কার্যকর করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এজেড

