ঢাকা প্রচণ্ড গরমে ফ্যানের নিচে বসেও কি ঘামছেন? অনেক সময় দেখা যায় পূর্ণ গতিতে (ফুল স্পিড) দিয়েও সিলিং বা টেবিল ফ্যান আশানুরূপ হাওয়া দিচ্ছে না। মেকানিক ডাকার আগে নিজেই কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলে মাত্র কয়েক মিনিটে ফ্যানের গতি দ্বিগুণ করা সম্ভব। এতে ঘর যেমন ঠান্ডা হবে, তেমনি সাশ্রয় হবে বিদ্যুৎ বিলও।
কেন কমে যায় ফ্যানের গতি?
ফ্যান ধীরে চলার পেছনে মূলত কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকে-
ব্লেড বা পাখায় পুরু ধুলার আস্তর জমা।
ক্যাপাসিটর দুর্বল হয়ে যাওয়া।
মোটরের বেয়ারিং শুকিয়ে যাওয়া বা জ্যাম হওয়া।
বিজ্ঞাপন
রেগুলেটর পুরোনো বা নষ্ট হয়ে যাওয়া।

গতি বাড়ানোর কার্যকরী উপায়
১. ব্লেড ও মোটর পরিষ্কার করুন: ফ্যানের পাখায় ধুলো জমলে তা ভারী হয়ে যায়, ফলে বাতাস কাটার ক্ষমতা কমে যায়। ফ্যান বন্ধ করে একটি ভেজা কাপড় বা ব্রাশ দিয়ে ব্লেডগুলো ভালো করে পরিষ্কার করুন। পাখার ধুলো পরিষ্কার করলেই অনেকটা গতি ফিরে আসে।
আরও পড়ুন: সিলিং ফ্যান ১ ঘণ্টা চালালে কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয়?
২. ক্যাপাসিটর পরিবর্তন (সবচেয়ে কার্যকর): ফ্যান ধীরে চলার ৯০ শতাংশ কারণ হলো পুরোনো বা দুর্বল ক্যাপাসিটর। এটি একটি ছোট ব্যাটারির মতো দেখতে অংশ। বাজার থেকে ফ্যানের মান অনুযায়ী (যেমন ২.৫ বা ৩.৫ মাইক্রোফ্যারাড) একটি নতুন ক্যাপাসিটর কিনে সংযোগ দিয়ে দেখুন। এটি করলে ফ্যান আবার নতুনের মতো দ্রুত ঘুরতে শুরু করবে।
৩. বেয়ারিংয়ে তেল দিন: অনেকদিন চলার ফলে ফ্যানের ভেতরের বেয়ারিং শুকিয়ে যায়। এতে ঘর্ষণ বেড়ে গিয়ে গতি কমে যায়। ফ্যানের উপরের অংশে হালকা মেশিন অয়েল বা লুব্রিকেন্ট দিলে জ্যাম ছেড়ে যায় এবং ফ্যান নিঃশব্দে দ্রুত ঘোরে।
_20260403_113015322.png)
৪. রেগুলেটর চেক করুন: অনেক সময় ফ্যান ঠিক থাকলেও পুরোনো এনালগ রেগুলেটরের কারণে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধা পায়। সেক্ষেত্রে ভালো মানের ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহার করলে সঠিক ভোল্টেজ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: অকটেনের গাড়ি কি পেট্রোলে চলে? ভুল জ্বালানি ব্যবহারে ইঞ্জিনের যে ক্ষতি
সতর্কবার্তা
ফ্যানের যেকোনো বৈদ্যুতিক কাজ করার আগে অবশ্যই মেইন সুইচ বা ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে নিন। ক্যাপাসিটর বদলানোর সময় তারের সংযোগগুলো সাবধানে লক্ষ্য করুন, প্রয়োজনে একজন ইলেকট্রিশিয়ানের সাহায্য নিন।
এজেড

