ইলেকট্রনিক বা স্মার্ট ডোর লক বর্তমান সময়ে আধুনিক জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ। চাবির ঝামেলা এড়াতে এবং বাড়তি নিরাপত্তার জন্য অনেকেই বাড়িতে ডিজিটাল লক লাগাচ্ছেন। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের ইনদওরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সেখানে একটি বাড়িতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার সময় শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে এবং পর পর কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাড়ির ডিজিটাল লকগুলো জ্যাম হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা আটকা পড়েন এবং ৮ জন প্রাণ হারান।
স্মার্ট লক সুবিধাজনক হলেও জরুরি অবস্থায় এটি যেন আপনার পরিবারের জন্য বিপদ ডেকে না আনে, সেজন্য আজই নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করে নিন:
বিজ্ঞাপন
১. ‘ফেইল-সেফ’ লক নির্বাচন করুন
বাজারের সব ডিজিটাল লক এক নয়। বাড়ির প্রধান দরজার জন্য সবসময় ‘ফেইল-সেফ’ (Fail-safe) লক বেছে নিন। এই ধরনের লক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায়। অন্যদিকে ‘ফেইল-সিকিউর’ লক বিদ্যুৎ চলে গেলে বন্ধ থাকে, যা জরুরি মুহূর্তে ঘর থেকে বের হওয়ার পথ আটকে দিতে পারে।

২. ম্যানুয়াল ওভাররাইড বা জরুরি চাবি
বিজ্ঞাপন
যতই আধুনিক লক হোক না কেন, প্রতিটি ডিজিটাল লকের সঙ্গে একটি ফিজিক্যাল বা ম্যানুয়াল চাবি থাকা বাধ্যতামূলক। আগুন লাগলে বা লকের ইলেকট্রনিক সিস্টেম নষ্ট হয়ে গেলেও যেন চাবি দিয়ে দরজা খোলা যায়, তা নিশ্চিত করুন। এই চাবিটি পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্যদের নাগালে রাখুন।
৩. ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই (UPS)
আপনার স্মার্ট লকটিকে একটি ইউপিএস (UPS) বা শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপের সঙ্গে সংযুক্ত রাখুন। অনেক লকে বিল্ট-ইন ব্যাটারি থাকে, সেগুলো নিয়মিত চার্জ আছে কি না বা ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করুন।
৪. ফায়ার অ্যালার্মের সঙ্গে সংযোগ
সম্ভব হলে বাড়ির স্মার্ট লকটিকে ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করুন। এতে ঘরে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বাজার পাশাপাশি লকটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে, যা দ্রুত জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে।

৫. পুশ বার বা ব্রেক গ্লাস বাটন
জরুরি অবস্থায় প্যানিক না করে দ্রুত বের হওয়ার জন্য দরজায় একটি ‘পুশ-টু-এক্সিট’ বাটন বা ‘ব্রেক গ্লাস’ ইউনিট স্থাপন করতে পারেন। এটি চাপলে লকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দরজা দ্রুত খুলে যায়।
৬. জানালার গ্রিল ও কুইক-রিলিজ জাল
ভারতের ইনদওরের ঘটনায় দেখা গেছে জানালার মজবুত জালও মানুষের পালানোর পথ আটকে দিয়েছিল। তাই জানালায় সুরক্ষার জন্য গ্রিল বা জাল ব্যবহার করলে এমন সিস্টেম রাখুন যা ভেতর থেকে দ্রুত খোলা যায় (Quick-release)।

৭. নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ
প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর আপনার ডিজিটাল লকটি পরীক্ষা করুন। ব্যাটারি ঠিক আছে কি না বা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি দেখা দিচ্ছে কি না তা বিশেষজ্ঞ দিয়ে যাচাই করে নিন। যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে দেরি না করে মেরামত করুন।
৮. পরিবারকে জরুরি প্রশিক্ষণ
আগুন লাগলে বা লক জ্যাম হয়ে গেলে কীভাবে বিকল্প পথে বের হতে হবে, তা পরিবারের শিশু ও বয়স্কসহ সবাইকে শিখিয়ে দিন। একটি পরিকল্পিত ‘এমার্জেন্সি এক্সিট’ ম্যাপ তৈরি করে রাখা বুদ্ধির কাজ।
আরও পড়ুন: সুইচ বন্ধ করার পরেও এলইডি বাল্ব জ্বলে কেন?
প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করে ঠিকই, কিন্তু অন্ধবিশ্বাস অনেক সময় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই স্মার্ট লক কেনার সময় সবসময় নামী ব্র্যান্ড বেছে নিন এবং সব নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে তবেই ইনস্টল করুন। মনে রাখবেন, নিরাপত্তা মানে কেবল চোর ঠেকানো নয়, বিপদে জীবন বাঁচানোও।
এজেড
