মার্চ শেষ হতে না হতেই প্রকৃতিতে আগাম গরমের আঁচ। এপ্রিল মানেই কাঠফাটা রোদে হাঁসফাঁস অবস্থা। এই গরমে একটু স্বস্তি পেতে অনেকেই নতুন এয়ার কন্ডিশনার (AC) কেনার পরিকল্পনা করছেন। তবে এসি কিনতে গিয়ে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি যে দ্বিধায় পড়েন, তা হলো— স্টার রেটিং। ৩ স্টার নাকি ৫ স্টার, কোনটি কিনলে বিদ্যুৎ বিল কম আসবে? সেই ধোঁয়াশা কাটতেই আজকের এই প্রতিবেদন।
স্টার রেটিং আসলে কী?
বিজ্ঞাপন
এসি-র গায়ে সাঁটানো এই স্টার রেটিং মূলত একটি নির্দেশক, যা দিয়ে বোঝা যায় যন্ত্রটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কতটা দক্ষ। এই রেটিং নির্ধারণ করে ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE)। রেটিং যত বেশি হবে, এসিটি বিদ্যুৎ খরচে ততটাই মিতব্যয়ী হবে।

৩ স্টার বনাম ৫ স্টার: মূল পার্থক্য
বাজারে ৩ স্টার এসির তুলনায় ৫ স্টার এসির দাম কিছুটা বেশি। তবে এই বাড়তি দামের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ের অংক।
বিজ্ঞাপন
৫ স্টার এসি: এর কার্যক্ষমতা সবচেয়ে বেশি এবং এটি অত্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
৩ স্টার এসি: ৫ স্টারের তুলনায় এর কার্যক্ষমতা কিছুটা কম এবং বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের হিসাব
এসি-র স্টার রেটিং মূলত নির্ধারিত হয় এনাজিং ইফিশিয়েন্ট রেশিওর ওপর ভিত্তি করে। সহজভাবে বললে, আপনার এসিটি বছরে কতটুকু ঠান্ডা দিচ্ছে এবং তার বিপরীতে কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ করছে, তার অনুপাতই হলো এটি।

বছরে কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে?
পরিসংখ্যান বলছে, যদি আপনি প্রতিদিন গড়ে ৮ ঘণ্টা করে দেড় টনের একটি ৫ স্টার এসি ব্যবহার করেন, তবে ৩ স্টার এসির তুলনায় বছরে প্রায় আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: এসি কততে চালালে বিদ্যুৎ খরচ সবচেয়ে কম হয়?
আপনার জন্য কোনটি সেরা?
এসি কেনার আগে আপনার ব্যবহারের সময়কাল মাথায় রাখুন-
১. যদি আপনার প্রতিদিন এসি চালানোর সময় ৬ ঘণ্টার বেশি হয়, তবে চোখ বন্ধ করে ৫ স্টার এসি কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. আর যদি ব্যবহারের সময় কম হয়, তবে বাজেটের কথা মাথায় রেখে ৩ স্টার বেছে নিতে পারেন।
মনে রাখবেন: কেনার সময় দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫ স্টার এসি আপনার পকেটের ওপর চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
এজেড

