স্মার্টফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু ধরুন, আপনি ফোন রিসিভ করলেন আর ওপাশ থেকে কেউ কোনো কথা বলছে না—পুরোটাই নিস্তব্ধ। এমন অভিজ্ঞতা হলে একে কেবল নেটওয়ার্কের সমস্যা ভেবে ভুল করবেন না। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ভিত্তিক এক নতুন ও ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ। আপনার একটি মাত্র ‘হ্যালো’ শব্দই অপরাধীদের হাতে তুলে দিতে পারে আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার চাবিকাঠি।
কীভাবে কাজ করে এই ‘সাইলেন্ট কল’ স্ক্যাম এবং বাঁচবেন যেভাবে:
বিজ্ঞাপন
কণ্ঠ নকলের আধুনিক ফন্দি
এই স্ক্যামের মূল লক্ষ্য আপনার সঙ্গে কথা বলা নয়, বরং আপনার কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা। আপনি যখন ফোন ধরে বারবার “হ্যালো” বলেন বা “কে বলছেন” জানতে চান, তখনই ওপাশে থাকা এআই টুল আপনার কণ্ঠের নমুনা সংগ্রহ করে নেয়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের স্পষ্ট কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে হুবহু আপনার মতোই আরেকটি কৃত্রিম কণ্ঠ তৈরি করা সম্ভব। পরবর্তীতে এই ‘ভয়েস ক্লোন’ ব্যবহার করে আপনার স্বজনদের কাছে বিপদগ্রস্ত সেজে টাকা হাতিয়ে নিতে পারে প্রতারক চক্র।
তথ্য সংগ্রহ ও টার্গেট নির্ধারণ
সাইলেন্ট কলের মাধ্যমে স্ক্যামাররা কেবল কণ্ঠই নয়, বরং আপনার আচরণের ওপরও নজর রাখে। আপনি কখন কল ধরেন, কত দ্রুত সাড়া দেন এবং আপনার প্রতিক্রিয়ার ধরন কেমন—সবই তাদের ডাটাবেজে জমা হয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে তারা পরবর্তীতে আরও বড় কোনো ডিজিটাল জালিয়াতির ছক কষে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, ব্যবসায়ী বা যারা নিয়মিত অপরিচিত নম্বর থেকে কল ধরেন, তারাই এই চক্রের প্রধান লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন

সাইলেন্ট কল থেকে নিরাপদ থাকার উপায়:
অপরিচিত নম্বর থেকে আসা রহস্যময় কল থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা নিচের পরামর্শগুলো দিয়েছেন:
কথা বলা থেকে বিরত থাকুন: যদি দেখেন ওপাশ থেকে কেউ কথা বলছে না, তবে নিজে থেকে “হ্যালো” বা কোনো শব্দ করবেন না। কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে কলটি কেটে দিন।
স্পিকার মোড ব্যবহার: সন্দেহজনক মনে হলে ফোনটি স্পিকার মোডে রাখুন কিন্তু নিজে চুপ থাকুন। প্রয়োজনে ব্যাকগ্রাউন্ডে টেলিভিশন বা মিউজিক চালিয়ে দিতে পারেন, যাতে আপনার কণ্ঠ রেকর্ড করা অসম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: স্মার্টফোনের ম্যাক অ্যাড্রেস বের করার উপায়
রিপোর্ট ও ব্লক: একই ধরনের নম্বর থেকে বারবার এমন কল আসলে দ্রুত সেই নম্বরটি ব্লক করে দিন এবং মোবাইল অপারেটর বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে রিপোর্ট করুন।
সতর্কতা অবলম্বন: পরিচিত কেউ হুট করে ফোন করে বিপদের কথা বলে টাকা চাইলে, নিশ্চিত হতে তাকে অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। কারণ সেটি এআই দিয়ে তৈরি নকল কণ্ঠও হতে পারে।
সতর্কবার্তা: প্রযুক্তির যুগে আপনার কণ্ঠস্বর এখন আপনার পাসওয়ার্ডের মতোই মূল্যবান। তাই অপরিচিত কলে নিজের কণ্ঠ দেওয়ার আগে দুবার ভাবুন। ডিজিটাল সচেতনতাই আপনাকে এই আধুনিক জালিয়াতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
এজেড

