সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারের শুরুতে আমরা সাধারণত দুটি বিকল্প পাই—ইমেইল অথবা মোবাইল ফোন নম্বর। আমাদের দেশে অধিকাংশ ব্যবহারকারীই সহজলভ্যতার কারণে মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বিশেষ করে ওটিপি (OTP) আসা বা পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর মনে হয়। তবে সাম্প্রতিক সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইমেইলের তুলনায় মোবাইল নম্বর দিয়ে ফেসবুক চালানো ব্যবহারকারীদের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন এই পদ্ধতিতে সতর্কতা জরুরি, তা নিচে আলোচনা করা হলো।
১. সিম সোয়াপিং বা সিম ক্লোনিংয়ের ঝুঁকি
বিজ্ঞাপন
মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার সবচেয়ে বড় ভীতি হলো 'সিম সোয়াপিং'। অপরাধীরা যদি কোনোভাবে আপনার সিম কার্ডের একটি ক্লোন তৈরি করতে পারে বা আপনার অপারেটর থেকে সিমটি পুনরায় তুলে নিতে পারে, তবে খুব সহজেই আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। তারা 'ফরগট পাসওয়ার্ড' অপশন ব্যবহার করে আপনার সিমে আসা ওটিপি দিয়ে অ্যাকাউন্টে ঢুকে পড়তে পারে, যা ইমেইল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে করা অনেক বেশি কঠিন।

২. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য পাচার
ফেসবুকে মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকলে অনেক সময় আপনার অজান্তেই সেটি পাবলিক বা ফ্রেন্ডস তালিকায় দৃশ্যমান থাকে। এর ফলে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান বা হ্যাকাররা সহজেই আপনার নম্বরটি সংগ্রহ করতে পারে। এতে অপ্রয়োজনীয় প্রমোশনাল কল বা স্প্যাম মেসেজের বিড়ম্বনা বেড়ে যায়। এমনকি নম্বরের সূত্র ধরে আপনার অবস্থান বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য খুঁজে বের করা সাইবার অপরাধীদের জন্য সহজ হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
৩. নম্বর পরিবর্তনের জটিলতা
অনেকেই সময়ের সাথে সিম কার্ড পরিবর্তন করেন কিন্তু ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পুরনো নম্বরটিই থেকে যায়। কোনো কারণে যদি সেই পুরনো নম্বরটি অন্য কারো নামে নিবন্ধিত হয় এবং তিনি যদি ফেসবুকে লগইন করার চেষ্টা করেন, তবে আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে। ইমেইল ঠিকানার ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি নেই বললেই চলে, কারণ ইমেইল সাধারণত দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে।

৪. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনে দুর্বলতা
নিরাপত্তার জন্য আমরা যে 'টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন' ব্যবহার করি, সেটি যদি কেবল এসএমএস নির্ভর হয় তবে তা হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারে। হ্যাকাররা বিভিন্ন কৌশলে নেটওয়ার্ক হ্যাক করে আপনার এসএমএস রুটিং পরিবর্তন করে দিতে পারে। অন্যদিকে, ইমেইল বা অথেন্টিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ ও আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।
আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপে কেউ ব্লক করলে বুঝবেন কীভাবে?
৫. বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
নিরাপদ থাকতে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রাথমিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ডযুক্ত 'ইমেইল আইডি' ব্যবহার করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। যদি মোবাইল নম্বর যুক্ত করতেই হয়, তবে সেটি সেটিংস থেকে 'অনলি মি' (Only Me) করে রাখা এবং নিয়মিত বিরতিতে সিকিউরিটি চেকআপ করা জরুরি। মনে রাখবেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপনার সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের সামাজিক বা আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এজেড

