আধুনিক জীবনযাত্রায় অনলাইন শপিং বা সুপারশপে কেনাকাটা এখন দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে কেনাকাটার সময় আমরা অজান্তেই নিজের নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য তুলে দিচ্ছি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে। সম্প্রতি ডেটা চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসতর্কতার ফলে আপনার এই তথ্যগুলো চলে যেতে পারে ডার্ক ওয়েবে বা সাইবার অপরাধীদের হাতে, যার ফলে আপনি পড়তে পারেন চরম আর্থিক ও সামাজিক ঝুঁকিতে।
আপনার তথ্য ফাঁস হয়েছে সন্দেহ হলে বা তথ্য অপব্যবহারের শিকার হলে করণীয় ও আইনি পদক্ষেপগুলো জেনে নিন-
বিজ্ঞাপন
১. দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন
তথ্য ফাঁসের খবর পাওয়ামাত্রই আপনার সংশ্লিষ্ট অনলাইন শপিং অ্যাকাউন্ট, ইমেইল এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী ও ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। নিরাপত্তার অতিরিক্ত স্তর হিসেবে অবশ্যই 'টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন' (2FA) চালু করুন। এতে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও অপরাধীরা সহজে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।

২. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা
বিজ্ঞাপন
যদি আপনার ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে কালক্ষেপণ না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে কথা বলে কার্ডটি সাময়িকভাবে ব্লক করে দিন। আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিয়মিত পরীক্ষা করুন; কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে এলে সাথে সাথে লিখিত অভিযোগ জানান।
৩. আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ
তথ্য চুরি বা ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হলে আইনি সুরক্ষা পাওয়া আপনার অধিকার।
জিডি করা: নিকটস্থ থানায় দ্রুত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধে আপনার তথ্য ব্যবহৃত হলে এই জিডি আপনার নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
সাইবার ক্রাইম ইউনিটে যোগাযোগ: ডিএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন বা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। এছাড়া 'হ্যালো সিটি' অ্যাপ বা সরকারি হেল্পলাইন ৩৩৩ ও ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা নেওয়া সম্ভব।

বিটিআরসি-তে অভিযোগ: কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ আপনার তথ্য অপব্যবহার করলে বিটিআরসি (BTRC)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা যায়।
৪. সুপারশপে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
সুপারশপে মেম্বারশিপ কার্ড বা ডিসকাউন্টের লোভে মোবাইল নম্বর দেওয়ার আগে নিশ্চিত হোন তারা আপনার তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করে কি না। অপ্রয়োজনীয় কোনো ফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য বা বাসার ঠিকানা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে আপনার তথ্য একটি 'পণ্য', তাই নিজের গোপনীয়তা রক্ষায় নিজেই সজাগ হোন।
আরও পড়ুন: নিরাপদে অনলাইনে কেনাকাটা করতে এসব নিয়ম মানুন
৫. ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট নিয়ন্ত্রণ
অপরিচিত বা অনিবন্ধিত ই-কমার্স সাইটে কেনাকাটা করার আগে সেটির বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নিন। পাবলিক ওয়াইফাই (যেমন-এয়ারপোর্ট বা কফিশপ) ব্যবহার করে কখনোই কোনো পেমেন্ট বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করবেন না। কোনো লিঙ্কে ক্লিক করার আগে সেটি আসল কি না, তা ডোমেইন নেম দেখে নিশ্চিত হোন।
এজেড

