দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে গ্রীষ্ম। তীব্র গরম আর তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন স্বস্তির একমাত্র ভরসা সিলিং ফ্যান। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, ফুল স্পিডে দিয়েও পাখা ঘুরছে ধীরগতিতে, গায়ে হাওয়া লাগছে না বললেই চলে। সবার বাড়িতে এসি না থাকায় এই গরমে ফ্যানের ওপরই নির্ভর করতে হয়। তবে চিন্তার কিছু নেই; মেকানিক না ডেকেই কয়েকটি সাধারণ কাজ করলে আপনার পুরনো ফ্যানও ফিরবে নতুনের মতো গতিতে।
কেন কমে যায় ফ্যানের গতি?
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন একটানা চলার ফলে বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সিলিং ফ্যানের গতি কমে যেতে পারে। এর পেছনে প্রধানত কয়েকটি কারণ দায়ী:
পুরনো ক্যাপাসিটর: ফ্যানের স্পিড কমে যাওয়ার ৯০ শতাংশ কারণ হলো ক্যাপাসিটর দুর্বল হয়ে যাওয়া। এটি পুরনো হলে ফ্যান পর্যাপ্ত পাওয়ার পায় না।

ব্লেডে ধুলাবালির আস্তরণ: ফ্যানের পাখায় পুরু হয়ে ধুলো জমলে তার ওজন বেড়ে যায় এবং বাতাসের ঘর্ষণে গতি কমে আসে।
বিজ্ঞাপন
লুব্রিকেন্টের অভাব: ফ্যানের ভেতরের বল বেয়ারিং শুকিয়ে গেলে বা জং ধরলে ঘর্ষণ বেড়ে গতি কমে যায়।
ভোল্টেজ ফ্লাকচুয়েশন: পাওয়ার সাপ্লাই বারবার ট্রিপ করলে বা ভোল্টেজ ওঠা-নামা করলে ফ্যানের কয়েল ও স্পিডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
স্পিড বাড়াতে যা করবেন
সিলিং ফ্যানকে আবার ফুল স্পিডে ঘোরাতে ইলেকট্রিশিয়ান ডাকার আগে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. ক্যাপাসিটর পরিবর্তন: বাজার থেকে একই মানের একটি নতুন ক্যাপাসিটর কিনে নিজেই বদলে নিতে পারেন। এটি পরিবর্তন করলেই ফ্যান আবার আগের মতো দ্রুত ঘুরতে শুরু করবে।
আরও পড়ুন: এসি রুমে ফ্যান চালালে কী হয়?
২. পাখা পরিষ্কার রাখা: নিয়মিত বিরতিতে ফ্যানের ব্লেডগুলো মুছে পরিষ্কার রাখুন। এতে বাতাসের বাধা কমে যাবে এবং হালকা ওজনের কারণে ফ্যান দ্রুত ঘুরবে।
৩. সার্ভিসিং ও গ্রিজিং: বছরে অন্তত একবার ফ্যানের নাট-বোল্ট চেক করুন এবং বেয়ারিং-এ গ্রিজ বা লুব্রিকেটিং তেল ব্যবহার করুন। এতে যান্ত্রিক ঘর্ষণ কমে শব্দহীন ও দ্রুত গতি নিশ্চিত হবে।

৪. সঠিক স্থানে স্থাপন: সরাসরি তীব্র বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ফ্যান লাগানো এড়িয়ে চলুন। খোলা জায়গায় ফ্যান লাগালে ধুলোবালি বেশি জমে এবং বাতাসের গতির কারণে ফ্যানের ঘূর্ণনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
গ্রীষ্মের এই নাভিশ্বাস ওঠা গরমে সামান্য এই যত্নটুকুই আপনার ঘরে ফেরাতে পারে প্রশান্তির হাওয়া।
এজেড




