পুরানো বা অব্যবহৃত মোবাইলের ব্যাটারি ঘরে রাখা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তার এক ভয়াবহ উদাহরণ তৈরি হলো ভারতে। সম্প্রতি দেশটির একটি রাজ্যে মোবাইলের ব্যাটারি নিয়ে খেলতে গিয়ে বিস্ফোরণে ১০ বছরের এক শিশু তার হাতের বুড়ো আঙুল হারিয়েছে এবং বাকি আঙুলগুলো মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায় দুই ভাই মিলে বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় একটি পুরানো ব্যাটারি নিয়ে খেলার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঘরে পড়ে থাকা নষ্ট ব্যাটারিগুলো আসলে একেকটি 'টাইম বোমা'।
বিজ্ঞাপন
বড় বিপদের কারণ ও ঝুঁকি
পুরানো ফোনের ব্যাটারি ঘরে রাখার ফলে বেশ কিছু মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হতে পারে-
ব্যাটারি ফুলে যাওয়া ও বিস্ফোরণ: একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর ব্যাটারি নষ্ট হয়ে ফুলে ওঠে, যা যেকোনো সময় ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: অতিরিক্ত গরম হওয়ার কারণে ব্যাটারিতে শর্ট সার্কিট হতে পারে এবং এর ফলে ঘরে আগুন লেগে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিজ্ঞাপন

রাসায়নিক নিঃসরণ: ব্যাটারি থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক লিক হতে পারে, যা ত্বক, চোখ বা জামাকাপড়ের সংস্পর্শে এলে অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রমাণিত হয়।
চাপের ফলে বিস্ফোরণ: পুরানো ব্যাটারির ওপর কোনো কারণে চাপ পড়লে বা শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করলে সেটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
সতর্কতা ও করণীয়
মোবাইল ব্যাটারিজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষজ্ঞ ও প্রতিবেদনগুলো বেশ কিছু পরামর্শ প্রদান করেছে-
ঘরে ফেলে না রাখা: পুরানো স্মার্টফোন বা ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ধরে ঘরে ফেলে রাখা উচিত নয়।
সঠিক জায়গায় হস্তান্তর: বাজারে থাকা বিভিন্ন স্টার্টআপ বা সংস্থার কাছে পুরানো ফোন বা ব্যাটারি বিক্রি করে দেওয়া নিরাপদ।
সরাসরি রোদে না রাখা: ব্যাটারি বা ফোন সরাসরি কড়া রোদে রাখা বিপজ্জনক, এতে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা: শিশুদের হাতে কখনো বিচ্ছিন্ন বা ফুলে যাওয়া ব্যাটারি দেওয়া যাবে না।
এজেড

